সংস্করণ
Bangla

সোরভ শুধু তামাশা করেন না চিমটিও কাটেন

10th Jan 2018
Add to
Shares
7
Comments
Share This
Add to
Shares
7
Comments
Share

স্ট্রেস কাটাতে চান! আপনার তাহলে এই তিক্ত সময়ে একটা কমিক রিলিফ চাই। দেখে শুনে চলে আসুন যেকোনও স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের শোতে। তিনঘণ্টা ফিল্ম দেখার চেয়ে অনেক কম খরচে দুর্দান্ত মজা নিয়ে ফিরবেন, এ হলফ করে বলতে পারি। স্ট্যান্ড আপ কমেডি মানে চটুল চুটকি নয়, ভেজা ফ্রাইও নয়। আপনার রসবোধকে উদ্রিক্ত করা। আপনার মজা পাওয়ার টেস্ট বাডসগুলোকে টিজ করা। এবং আপনার জীবনে একটা লেসন দেওয়ার সেশন। 

image


যত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির কালচার ততই জুড়ে যাচ্ছেন কুশীলবেরা। কলকাতায় বেশ কয়েকটি ক্লাব আছে। দল বেঁধে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি করেন ওঁরা। আবার একক ভাবেও অনেকে উঠে এসেছেন এই ক বছরে। তবে কলকাতার থেকে অনেকটা এগিয়ে আছে বিনোদনের তীর্থক্ষেত্র মুম্বাই। পিছিয়ে নেই বেঙ্গালুরু, চেন্নাইও।

সেখানে টিকে থাকার লড়াই অনেক বেশি। দর্শকদের চাহিদাও অনেক বেশি। সার্কিট থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কাও কম নয়। সব মিলিয়ে এই ঠাট্টা তামাসার জগতেও লড়াকু না হলে টিকে যে থাকা যায় না তা স্পষ্ট বললেন সোরভ পন্থ। সোরভ একজন সমসাময়িক স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান। খ্যাতি পেয়েছেন। বছরে দশটি দেশের ৩২টি শহরে ৮০০ রও বেশি শো করে বেড়ান। কিন্তু নিজের লড়াইয়ের কথা ভোলেননি। বলছিলেন, তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। খেটে খাওয়া বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ভালো রোজগার করুন। কিন্তু বারো তেরো বছর বয়স থেকেই জনি লিভারের এই ফ্যান কথায় কথায় মজা করতেন। কলেজে পড়ার সময় সেই মাত্রা বাড়তে থাকে। এতটাই যে সিদ্ধান্ত নেন পরিহাস করাকেই পেশা করে নেবেন। বাবা মা দুজনেই সৃজনশীল মানুষ তাই তারাও খুব একটা আপত্তি করলেন না। বিকম শেষ করেই বিভিন্ন টিভি শোয়ের স্ক্রিপ্ট লেখায় হাত পাকানো শুরু করে দেন। বিশেষ করে কমেডির স্ক্রিপ্ট লিখতে থাকেন। হাতে চলে আসে চ্যানেল ভি’র দ্যা গ্রেট ইন্ডিয়া কমেডি শোয়ের স্ক্রিপ্ট লেখার বরাত। এরপর ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডের স্ক্রিপ্ট। হাত ভরে যায় কাজে। একই সঙ্গে চারটি সংস্থা এবং বীর দাসের কাজ করতে করতে হঠাৎ মনে হয় নিজের জন্যে জোকস লিখবেন। ২০০৮ সালের কথা। এভাবেই সোরভ হয়ে উঠলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান। দিনে টানা চোদ্দ পনের ঘণ্টা কাজ, স্ক্রিপ্ট তৈরি করা নিজেকে গ্রুম করা, রিহার্সাল, প্র্যাকটিস আর নো ফাম্বল অ্যাটিটিউড দিয়ে তার দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখেন সোরভ। কখনও ক্লান্ত হন না। কারণ, কাজের ভিতর ডুবে থাকতে ভালোবাসেন এই তরুণ কমেডিয়ান। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কমেডি করেন না। এবং কাউকে সে পরামর্শও দেন না। ভালোবেসে কাজ করতে যারা চান তাদের জন্যে সোরভের পরামর্শ চাকরি বা ব্যবসা থাকলে এখনই ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাববেন না। কারণ মনে রাখবেন, অন্তত ২ বছর পকেট হাল্কা থাকবে। একটা টাকাও ঢুকবে কিনা সন্দেহ। পাশাপাশি অন্য কমেডিয়ানদের কাজ দেখতে হবে, বুঝতে হবে কে কি করেছেন। লোক হাসালেই হবে না। নিজের স্টাইল তৈরি করাটা জরুরি।

বলছিলেন তিনি বড় হয়েছেন জনি লিভার, সাইরাস ব্রোচের কমেডি দেখে। ব্রায়ান রিগ্যান, ক্রিস রক, মাইক বিরবিগলিয়া, জন স্টুয়ার্ট, জন অলিভার সবার কাজই তাঁকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। দর্শক শ্রোতার মন পড়তে পারার অভিজ্ঞতা তাকে আসরে বুঝে স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে শিখিয়েছে। কর্পোরেট শো, লাইভ শো, বার শো, থিয়েটার শো সব শোয়ের জন্য আলাদা আলাদা কমেডি। সোরভের মতে, ভারতে ৩০ জনেরও বেশি ভালো ভালো কমেডিয়ান রয়েছেন। আরও ১০ জন লাইনে রয়েছেন। তবে কমেডি শোগুলি দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুর মধ্যে সীমাবদ্ধ। চেন্নাইতেও বেশ কয়েকজন ভালো কমেডিয়ান আছেন। মাত্র কয়েকটি মেট্রো শহরে কেন কমেডি আবদ্ধ থাকবে? এখন অন্তত ৭টি কমেডি সংস্থা রয়েছে। ২০১২ সালে দ্য ইস্ট ইন্ডিয়া কমেডি গ্রুপ গড়েছেন। যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রচারের আলোয় না থাকা সম্ভাবনাময় কমেডিয়ানদের জন্য মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া। এখন টিভি, ইউটিউব, স্টেজ শো, ফিল্ম, রেডিও একই সঙ্গে কত সুযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ছবিটা বদলাচ্ছে।

আর কনটেন্ট সম্পর্কে সোরভের বক্তব্য স্পষ্ট, কাউকে অসম্মান নয়, তবে চিমটি অবশ্যই কাটুন, ভুলগুলোর সমালোচনা করুন। শিশুর পর একজন বিদূষকই পারেন রাজা 'তুই ন্যাংটো কেন?' মুখের ওপর সুন্দর করে বলে দিতে। 
Add to
Shares
7
Comments
Share This
Add to
Shares
7
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags