সংস্করণ
Bangla

ছিঃ! বলার শক্তি দিচ্ছে অনুষ্কার 'লজ্জা ডায়েরি'

YS Bengali
18th Dec 2016
Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share

লজ্জা ডায়েরি। না লাজুক স্বভাবের মেয়ের নিজস্ব গোপণ ডায়েরি নয়। এ এক আর্তনাদের, গোঙানির শব্দে ভরা ব্যথিত হৃদয়ের কান্না। কাঁদার জন্যেও সাহস মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলেন যেসব মেয়েরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এমন এক নারীর কাহিনি আজ বলব আপনাদের। অনুষ্কা আঢ্য।

image


মহিলা উদ্যোগপতি হিসাবে অনুষ্কা একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই প্রকল্পে সারা পৃথিবী জুড়়ে ধর্ষিতা বা যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া মেয়েরা তাঁদের নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা লিপিবদ্ধ করছেন। নাম রেখেছেন লজ্জা ডায়েরি। এই প্রকল্পটি অনুষ্কার সংস্থা Di-Mentions এর উদ্যোগ। প্রসঙ্গত, Di-Mentions একটি ডিজিটাল মার্কেটিং তথা ডিজাইন এজেন্সি। কিন্তু অনুষ্কার এই প্রকল্প কেবল মার্কেটিং স্টান্ট নয়। সমাজের রীতিমত প্রভাব ফেলেছে।

ভারতে জন্ম। ছোটবেলাটা কেটেছে এ দেশের নানান শহরে। থেকেছেন দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদে। এছাড়া থেকেছেন কখনও কায়রোয়, লন্ডনে, এডিনবরায় কিংবা গ্লাসগোয়। বর্তমানে পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন মুম্বইয়ে। ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিজনেস স্কুল ইন মার্কেটিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি থেকে ২০১০ সালে স্নাতক হয়েছেন অনুষ্কা। এরপর কয়েক বছর নামী সংস্থায় চাকরি করে ভারতে ফিরে আসেন ২০১৪ সালে।

দেশে ফেরার পরে নিজে কিছু একটা করবার কথা যখন ভাবছেন, সেইসময়ে পারিবারিক বন্ধু দেবেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ আরম্ভ করেন ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজিং নিয়ে। সেইসময় ওঁরা দেখেছিলেন এ দেশে নারী নির্যাতন, পীড়ন আর অত্যাচারের নানান কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে। মেয়েরা মন খুলে কথা বলতে ভয় পান। অন্যায় চলতেই থাকে। সে ক্ষেত্রে কাজের বিপুল জায়গার হদিস পেলেন ওরা। 

কিছুদিন আগে চালু হওয়া মাত্রই অনুষ্কার মস্তিষ্কপ্রসূত লজ্জা ডায়েরি ভালো সাড়া পেয়েছে। বহু মেয়ে তাঁদের হেনস্থার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। অনুষ্কা জানালেন, যৌন হেনস্থার শিকার মেয়েদের চিকিৎসার ব্যাপারে সহায়তা করতে শীঘ্রই তাঁরা কাজে নামতে চলেছেন।

অনুষ্কার বক্তব্য, শুধু ভারতে নয়, সারা পৃথিবীতে প্রতিদিন বহু মেয়ে যৌনহেনস্থার শিকার হচ্ছেন। ওঁদের নিজেদের কথা বলার মতো একটি মঞ্চের দরকার ছিল। লজ্জা ডায়েরির মাধ্যমে সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা চলছে মাত্র।

অনুষ্কারা ভুল করেননি। তা মাত্র দুবছরে Di-Mentions এর ব্যবসায়িক সাফল্যের খতিয়ান থেকে স্পষ্ট। জানা গিয়েছে, সংস্থার বাৎসরিক টার্নওভার এখন ২ থেকে ৩ কোটি টাকা। সংস্থার নিজস্ব কর্মীর সংখ্যা ২০জন। এছাড়াও, সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১০ থেকে ১৫জন ফ্রি-ল্যান্সার। তবে সংস্থা দাঁড় করাতে প্রথম দুবছর প্রায় ২৪ ঘণ্টাই বিনা ছুটিতে কাজ করতে হয়েছে বলে জানালেন অনুষ্কা। 

Add to
Shares
17
Comments
Share This
Add to
Shares
17
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags