সংস্করণ
Bangla

‘প্যারাডাইস’ – অতীতের ক্যান্টিন থেকে আজকের বহুজাতিক হতে চলা এক সংস্থার কাহিনী

YS Bengali
7th Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share


ভোজনরসিকদের কাছে শুধু বিরিয়ানির নামটুকুই যথেষ্ট। আর কথা যদি ওঠে হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি নিয়ে, তাহলে ‘প্যারাডাইস’ এর নাম বাদ দিলে বিরিয়ানির সে আলোচনা অনেকাংশেই থেকে যাবে অসম্পূর্ণ। হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদ শহরে প্যারাডাইস আজ শুধু এক জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট চেনই নয়, বরং হয়ে উঠেছে রসনাতৃপ্তির জগতের অন্যতম এক নাম। হায়দ্রাবাদের মত শহর, যেখানে রয়েছে একের পর এক চমৎকার সব খাবার জায়গা, সেখানে আলাদা করে প্যারাডাইসের উল্লেখ এই সংস্থার জনপ্রিয়তাকেই সূচিত করে। তবে এইভাবে ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে ওঠা এবং এবং এই বিপুল খ্যাতি কিন্তু একদিনে সম্ভব হয়নি। বরং দীর্ঘ পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এসেছে সে সাফল্য।


image



গোড়ার কথা –

সেকেন্দ্রাবাদ শহরে ‘প্যারাডাইস’ সিনেমা হল সংলগ্ন একটি ছোটো ক্যান্টিন থেকে পথ চলার শুরু। এখানকার খাবার এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে ৬০’ এর দশকের গোড়ার দিকে ক্যান্টিনের জায়গায় তৈরি করা হয় একটা ছোটো রেস্তোঁরা যেখানে হরেকরকমের হায়দ্রাবাদী খাবার পাওয়া যেত। ১৯৭৮ সালে আলি হেমতি সংস্থার চেয়ারম্যান হবার পর তিনি প্যারাডাইসের কর্মপদ্ধতি, সাজসজ্জা ও খাবারের ধরনে বদল আনলেন। 


image


ন্যায্য দামে সুস্বাদু, ঐতিহ্যবাদী হায়দ্রাবাদী খাবার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াটাই ছিল মূল লক্ষ্য। বর্তমানে হায়দ্রাবাদ ও বেঙ্গালুরু – এই দুই শহর মিলিয়ে প্যারাডাইসের মোট ১১ টি বৃহৎ শাখা রয়েছে। এগুলির মধ্যে হায়দ্রাবাদের একটি শাখায় ১৫০০ মানুষ একসাথে বসে খাবার মত ব্যবস্থা রয়েছে। একটি নথি অনুসারে অনুসারে, এটাই দেশের বৃহত্তম রেস্তোরাঁ। বর্তমানে এই ফুড চেন দ্রুত নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়ে তুলছে। হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু সহ আরো একাধিক শহরে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন আউটলেট। পুনে ও দিল্লী সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে প্যারাডাইসের প্রায় পঞ্চাশটি নতুন শাখা গড়ে উঠেছে। আগামী দু-বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও দুবাইতেও আরো বাড়তে চলেছে বিপনণির সংখ্যা।


ব্যবসাবৃদ্ধির পরিকল্পনা –

প্যারাডাইসের পরিকল্পনা রয়েছে দ্রুত ব্যবসা বাড়িয়ে তোলার এবং এই পরিকল্পনাকে সম্ভব করতে সাহায্য করছে ২০১৪ তে ‘সামারা ক্যাপিটাল’ থেকে পাওয়া ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লগ্নি। “মোট উপার্জন হোক বা ক্রেতা সন্তুষ্টি – উভয় দিক দিয়েই আমরা ২০২০ এর মধ্যে ভারতের সেরা দশটা রেস্টুরেন্ট ব্র্যান্ডের মধ্যে নিজেদের জায়গা করে নিতে চাই। কেটারিং, ফ্লাইট কিচেন ও হোম ডেলিভারির মত নতুন কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসা শুরু করার জন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছি” জানালেন আলি হেমতি।

সবাই যদি কোথাও জোট বেঁধে কাজ করে, তাহলে কাজের মধ্যে তার ছাপ দেখা যায়। এই সংস্থার ২৫০০ কর্মচারীদের মধ্যে একটা বড় অংশই দীর্ঘ বহুবছর ধরে এই সংস্থার সাথে যুক্ত রয়েছেন এবং সংস্থার ব্যবসা ও সুনাম বৃদ্ধিতে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম।


Zomato, Burrp সহ আরো বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে প্যারাডাইস পেয়েছে একাধিক সম্মান। সচিন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, সানিয়া মির্জা, আমির খানের মত খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরাও নিয়মিত আসেন প্যারাডাইসের রেস্তোরাঁয়।


image


ব্যবসা বাড়িয়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি এই খাদ্য বিপনণ সংস্থা বিনিয়োগ করেছে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেও। গড়ে তুলেছে প্যারাডাইস ফাউন্ডেশান, যা্র লক্ষ্য অর্থনৈতিকভাবে পশ্চাৎপদ পরিবারের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক বিদ্যালয় তৈরি করা। এবং ইতিমধ্যেই বিগত বেশ কিছু বছর ধরে এই ফাউন্ডেশান একাধিক ছাত্রছাত্রীর পড়শোনার ব্যয় বহন করে চলেছে।


সংস্থার ওয়েবসাইট-

নিজেদের রেস্তোরাঁয় খেতে আসা মানুষ যাতে খুব সহজেই এখানকার খাবার ও ব্যবস্থা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেতে পারেন, তার জন্য এই বছরের গোড়ার দিকে প্যারাডাইস নিজেদের ওয়েবসাইটকে নতুনভাবে বানিয়েছে একটি পেশাদার ওয়েব- ডিজাইন সংস্থাকে দিয়ে। ২০০৯ সালেই সংস্থার কর্মকর্তারা ওয়েবসাইটের নাম ঠিক করেছিলেন paradisefoodcourt.com (‘প্যারাডাইস ফুড কোর্ট’ - এই নামে সংস্থাটি নিবন্ধীকৃত)। ডট কম - কারণ সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন যে এরকম ধরনের ওয়েবসাইটই তাঁদের সংস্থাকে বিরিয়ানির ব্যবসার একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসাবে গড়ে তোলার আকাঙ্খার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে।


সাধারণ মানুষের কাছে প্যারাডাইস বহুল পরিচিত একটি নাম হলেও সার্চ ইঞ্জিনে ‘হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি’ জাতীয় কি-ওয়ার্ড দিয়ে খুঁজলে Paradisefoodcourt.com এর নাম থাকত ‘সার্চ রেসাল্ট’ এর অনেক পিছনে, দশম পাতায়। কিন্তু SEO এবং 'সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং' এ কিছু কৌশলী বিনিয়োগের ফলে এখন সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজলে একদম প্রথম পাতাতেই চলে আসে প্যারাডাইসের নাম।

প্যারাডাইস ব্র্যান্ড ও প্যারাডাইসের খাবার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই দেওয়া রয়েছে সংস্থার এই ওয়েবসাইটে। “কোনো অফার বা নতুন কোনো শাখা চালু হওয়া – সংস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আমাদের ক্রেতারা ওয়েবসাইটেই পেয়ে যাবেন”, জানালেন হেমতি।

ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতেও রয়েছে প্যারাডাইসের পেজ। সমস্ত বড় ওয়েব পোর্টালেই তারা সক্রিয়। “প্যারাডাইস একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড না হওয়া পর্যন্ত আমি বিশ্রাম নেবনা,” দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হেমতি।



Going .com প্যারাডাইসের প্রবল জনপ্রিয়তা আরো বাড়াতে এবং এই সংস্থাকে জাতীয় আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে সাহায্য করছে। আপনিও নিজের সংস্থাকে আরো বড় করে তুলতে পারেন Going .com এর সাহায্যে। 


(এই নিবন্ধটি Verisign নিবেদিত CitySparks series এর অংশ।)


লেখক – শরিকা নায়ার

অনুবাদ – সন্মিত চ্যাটার্জী

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags