সংস্করণ
Bangla

জীবনদায়ী ভ্যাক্সিনের দিশা দিল মেডযোগ

Esha Goswami
5th Sep 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

আমাদের দেশের মানুষ বহু দূরারোগ্য রোগের শিকার হন। যা বিশেষ ধরণের ভ্যাক্সিন দ্বারাই নির্মূল করা সম্ভব। এমনই এক রোগ সোয়াইন ফ্‌লু। মেডযোগের সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রণাল বাদানির স্বপ্ন ছিল চিকিৎসা নিয়ে এমন কিছু করা যা স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারবে। দুর্লভ ওষুধ কীভাবে সহজলভ্য করা যায় সেটাই ছিল প্রণালের প্রাথমিক লক্ষ্য। 

মেডযোগের উদ্যোগ

জিওমি মডেলে সাফল্য পেতে চাননি প্রণাল। দেশজোড়া আতঙ্কিত রোগীদের হাতে তিনি ভ্যাক্সিন তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রীতিমত নাজেহাল হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল। কারণ চাহিদার তুলনায় ভ্যাক্সিনের পরিমান ছিল খুব কম। ওষুধের সরবরাহও ছিল সীমিত। ভ্যাক্সিন উৎপাদন ও সংরক্ষণ সহজসাধ্য ছিল না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা দারস্থ হন হাসপাতাল, ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর। কোথাও আশার আলো দেখতে পাননি। দু'সপ্তাহ পর এক বড়ো ওষুধ বিক্রেতা সংস্থা মৌখিক আশ্বাস দেয় যে ভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে। প্রায় নিমরাজি হয়েই জিওমি মডেল অনুসরণ করতে বাধ্য হন প্রণাল। বানিয়ে ফেলেন ওয়েব পোর্টাল। যার মারফত ভ্যাক্সিনের জন্য আগে ভাগে রেজিস্ট্রেশন করার ব্যবস্থা করা হয়। 

মেডযোগের  উদ্যোগে ভ্যাক্সিন দান

মেডযোগের উদ্যোগে ভ্যাক্সিন দান


কিছুদিনেই তাঁরা ১২০০ রেজিস্ট্রেশন পান। কিন্তু এই সময় বাজারে কোনো ভ্যাক্সিন পাওয়া যাচ্ছিল না। বিক্রেতারাও এর উৎপাদন সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না।তাঁরা প্রথম পর্বের রেজিস্ট্রেশন মতো আরও জোড় কদমে ভ্যাক্সিনের খোঁজ শুরু করেন। ব্যাঙ্গালোর ছাড়াও দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরে খোঁজ করেও নিরাশই হয় মেডযোগ।

ভ্যাক্সিন উৎপাদনকারীরা এত চাহিদার জন্য তৈরি ছিলেন না। উৎপাদিত ভ্যাক্সিন বেশিরভাগ সরকারের নির্দেশে চলে যাচ্ছিল রাজস্থান,গুজরাট,অন্ধ্রপ্রদেশের গ্রামে, যেখানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল।

ওষুধের এতো সংকট যা সামাল দেওয়া দুঃসাধ্য। এরকম পরিস্থিতিতে প্রণালের কিছু সঙ্গী হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তারা বলেন তারা ক্ষমা চেয়ে নেবেন। কিন্তু এভাবে হারতে নারাজ ছিলেন মেডযোগের কিছু কর্মী। তারা মানুষের বিপুল সাড়া পেয়ে ছুটে যান ব্যাঙ্গালোরের সমস্ত বড় বড় স্বাস্থ্য পরিসেবা সংস্থার দরজায়। ভ্যাক্সিনের চাহিদার লম্বা তালিকা হাতে। ২০১৫ সালের ১৮ই মার্চ অ্যাপোলো হাসপাতাল তাঁদের ভ্যাক্সিন দেওয়ার আশ্বাস দেয়। সেটা চাহিদার তুলনায় কম হলেও তাতেই তাঁরা খুশি। সেই মুহুর্তে তাঁরা ১০০ টা ভ্যাক্সিন পান। ২০শে মার্চ দুপুর দুটোর ভিতর বিক্রি হয়ে যায় সমস্ত ভ্যাক্সিন। মাথা পিছু দুটোর বেশি ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়নি। অনেকে খালি হাতে ফিরে গেছেন। তবে তাঁরা প্রতিজ্ঞা রাখতে পেরে খুশি। মানুষের বিশ্বাসের ভিত আরও মজবুত হয়। পরের বারের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০০।

মানুষের জীবনদায়ী ভ্যাক্সিন দেওয়ার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মেডযোগ

প্রণাল এবং তাঁর মেডযোগ এক কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়াকে সরল রূপ দিতে সফল হয়েছেন। সবাই অনলাইনে তথ্য জানতে এবং আবেদন করতে পারছেন। এখন তাঁদের লক্ষ্য পরের বার তাদের যেন কাউকে ফিরিয়ে দিতে না হয়। তাঁরা যেন আবেদনকারী সবাইকে ভ্যাক্সিন দিতে পারেন। অন্তত এরকম স্বপ্নেই বিভোর হয়ে রয়েছেন প্রণাল।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags