সংস্করণ
Bangla

আইবিএম-এর সঙ্গে টক্কর কলকাতার দুই ব্যাঙ্কারের

Tanmay Mukherjee
8th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

গ্রাহকদের চটজলদি পরিষেবা দিিতে কত কিছুই করতে হয় ব্যাঙ্কগুলিকে। সেটা যাতে মসৃণভাবে হয় তার জন্য রয়েছে অনেক কাজ। কিন্তু তা করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই সমস্যায় পড়েন কর্মীরা। কারও কম্পিউটারে সফটওয়ার ইনস্টলশেন হচ্ছে না, কারও আবার সফটওয়ারে নানা গণ্ডগোল। কখনও মেল শেয়ার করা যাচ্ছে না। সমস্যার শেষ নেই। আর এই ঝঞ্ঝাট সামলানোর জন্য প্রতিটি আর্থিক সংস্থাকে অন্যের ওপর ভরসা করতে হয়। যারা মোটা টাকার বিনিময়ে এই কাজ করে দেয়। যার পোশাকি নাম রিস্ক ম্যানেজমেন্ট। বাজারে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায়, দ্বিগুণের বেশি দাম দিয়ে আইবিএম, ওরাকেলের ঝুঁকি সামলানোর প্যাকেজ কিনতে হয় ব্যাঙ্কগুলিকে। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলির একাধিপত্যের দিন এবার বোধহয় শেষ হতে চলেছে। এদের ডেরায় ‘হানা’ দিয়েছে কলকাতার দুই ব্যাঙ্কার। তৈরি করেছে, পিআরএম ফিনকন। ব্যাঙ্কের ঝুঁকি সামলানোর ক্ষেত্রে যা এক অব্যর্থ হাতিয়ার।


পৃথ্বীরাজ (বাঁ দিকে) ও প্রেমজিৎ, সহ প্রতিষ্ঠাতা পিআরএম ফিনকন

পৃথ্বীরাজ (বাঁ দিকে) ও প্রেমজিৎ, সহ প্রতিষ্ঠাতা পিআরএম ফিনকন


কোম্পানির ডিরেক্টর প্রেমজিৎ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ছাড়াও ঋণ ও বাজারের লেনদেনের কারিগরি দিকটা সামলায় ফিনকন। এই সংস্থা তাঁরই মস্তিষ্কের ফসল। এধরনের ক্ষেত্রে যে চাহিদা বিশাল তা বুঝে গিয়েছিলেন প্রেমজিৎবাবু। তাই মাত্র কয়েক বছরেই কলকাতার এই কোম্পানি ব্যাঙ্কিং জগতে এক পরিচিত নাম। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট পাশ করে সিটি ব্যাঙ্কের রিস্ক ম্যানেজমেন্টের দলে কাজ করছিলেন প্রেমজিৎ। সেখানে তিনি দেখেন, এইচডিএফসি, সিটি ব্যাঙ্ক ছাড়াও বড় ব্যাঙ্কগুলি ঝুঁকি সামলানোর দায়িত্বটা আইবিএম বা ওরাকেল-এর হাতে তুলে দিচ্ছে। তারা নির্দিষ্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে ব্যাঙ্কের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সামলাচ্ছে। এই জটিল পদ্ধতি সমাধানের জন্য বহুজাতিক ওই কোম্পানিগুলিকে বার্ষিক ১০ কোটি টাকা দিচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি। আর এই সেক্টরে তেমন কোনও আর সংস্থা না থাকায় নির্দিষ্ট আইবিএমের মতো কোম্পানিকে বিশাল অঙ্কের অর্থ চোকাতে হচ্ছে ব্যাঙ্কগুলিকে। কম মূল্যে এই ঝুঁকি সামলানোর বাজারটাই ধরতে চান প্রেমজিৎ।

ঘটনাচক্রে সেই সময় তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় পৃথ্বীরাজ মুর্খাজির। ততদিনে আর্থিক পরামর্শদাতা হিসাবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলেছেন পৃথ্বীরাজ। তাই দেরি না করে তাঁকে নিয়েই কোম্পানির প্রতিষ্ঠা করেন প্রেমজিৎ। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ব্যাঙ্কিং সেক্টরের দুই প্রতিষ্ঠিত কর্মী রূপেশ চৌধুরী ও অর্ণব দত্ত। ২০১১ সালে মাত্র ১২ সদস্যের দল নিয়ে গড়ে ওঠে পিআরএম ফিনকন। মূলত দেশের ছোট ব্যাঙ্কগুলিকেই তাদের ক্রেতা হিসাবে ধরে এগিয়েছে এই সংস্থা। বার্ষিক এক কোটি টাকায় ব্যাঙ্কের এই ঝক্কি সামলানোর দায়ভার নেয় এরা। ব্যাঙ্কিং বাজারে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, কম দামে উন্নত মানের প‌রিষেবা দেয় ফিনকন। সেজন্য অনেক ছোট অর্খলগ্নি সংস্থা বা ব্যাঙ্ক ফিনকন-এর ‘প্যাকেজ’ ব্যবহার করছে।

সামগ্রিকভাবে ব্যাঙ্কের কারিগরি পরিষেবায় ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ হয়। এমনটাই বলছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। যার মধ্যে ঝুঁকি সামলানোর জন্য ব্যাঙ্কগুলি ১০ শতাংশ অর্থ খরচ করে থাকে। এই বাজারকে লক্ষ্য করেই ছুটছে ফিনকন। ছোট ব্যাঙ্কগুলিকে ‘প্যাকেজ’ নেওয়ার জন্য বেশ কিছু অভিনব উপায় এনেছে এই কোম্পানি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘পে অ্যান্ড ইউজ গ্রো’ মডেল। এই সুবিধার মাধ্যমে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় সামান্য টাকা দিলেই চলে। পরবর্তীকালে ব্যাঙ্কের লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, বাকি টাকা দেওয়া যায় ফিনকনের এই প্রস্তাবে খুশি নতুন ব্যাঙ্কের মালিককূল। কোম্পানি সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য, ‘গুণে দুর্লভ, মূল্যে সুলভ’। ঝক্কি-ঝুঁকি একাই সামলায় ফিনকন।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags