সংস্করণ
Bangla

স্বাস্থ্যকর বিরিয়ানির ঠিকানা Haan D Biryani

6th Nov 2017
Add to
Shares
471
Comments
Share This
Add to
Shares
471
Comments
Share

রসনা খোঁজে বিরিয়ানি অথচ শরীর পারমিট করে না। তা বলে কি বিরিয়ানি খানা ভুলে যাবেন? নাহ একদম নয়। এক ফোঁটাও ডালডা না দিয়ে শুধু সূর্যমুখী তেলে রান্না করা বিরিয়ানি খান টেনশন ফ্রি হয়ে। বিরিয়ানি ব্রাদার্স মানে ইন্দ্রজিৎ আর অভিজিৎ বিরিয়ানি রসিকদের জন্য খুলে ফেললেন Haan 'D' Biryani টেক অ্যাওয়ে কাউন্টার।

image


‘বিরিয়ানি আমাদের রক্তে’, সগর্ব ঘোষণা দে সরকার ভাইদের। শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। তখনই দুই ভাই ইন্দ্রজিৎ আর অভিজিৎ হালকা ডালডা ছাড়া বিরিয়ানি নিয়ে আসে শহরে। ফোন করে অর্ডার করতে হত তখন। এখন থেকে আর প্রি-অর্ডার নয়, এজেসি বোস রোডে Haan 'D' Biryani টেক অ্যাওয়ে কাউন্টার থেকে প্রতিদিন মিলবে এই বিরিয়ানি। শুধু বিরিয়ানি নয়, সঙ্গে এবার থেকে নানা রকম কাবাব, চিকেন চাপ এবং বাটার চিকেনও পাওয়া যাবে, বললেন দুই ভাই।

কিন্তু লাইট বিরিয়ানির আইডিয়া এল কীভাবে? ‘আমার দাদু বিরিয়ানির পাগল। হার্ট অ্যা টাকের পর এমন সুস্বাদু খানা থেকে তো প্রায় বঞ্চিত হতে চলেছিলেন। আমাদের বাবা রনজিৎ দে সরকারের হোটেল ম্যা নেজমেন্টের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দাদুরজন্যক লো ফ্যা ট বিরিয়ানি নিয়ে রান্নাঘরে এক্সপেরিমেন্ট শুরু করলেন তিনি। বাড়িতে কোনও অনুষ্ঠান হলেও সেই লো ফ্যাট বিরিয়ানিই রান্না হত। বাবার চ্যালেঞ্জ ছিল বিরিয়ানিকে স্বাস্থ্যকর এবং তার সঙ্গে সুস্বাদু করা। সময় লেগেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে দাদু তো বটেই বাড়ির সবাই এই বিরিয়ানি পছন্দ করতে শুরু করেন। বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে বাইরেও যেতে শুরু করল নতুন রেসিপির বিরিয়ানি। আস্তে আস্তে এই বিরিয়ানির ফ্যানের সংখ্যাও বাড়তে থাকল। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে ভাই ইন্দ্রজিতের সঙ্গে ফ্যামিলি বিজনেসে হাত লাগিয়েছেন অভিজিৎ। লক্ষ্য একটাই, গত ২০ বছর ধরে পারিবারিক যে রেসিপি মানুষের মন জয় করেছে তাকে নিয়ে আরও এক্সপেরিমেন্ট করা এবং আরও বেশি করে খাদ্যরসিকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া।

ওদের চিকেন বিরিয়ানিতে প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ৫.৩৬ শতাংশ ফ্যাট থাকে। মটন বিরিয়ানিতেও একইরকম লো ফ্যাট বজায় রাখা হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম বিরিয়ানিতে ফ্যাট বলতে মাত্র ৬.৫ শতাংশ। বিরিয়ানি খাওয়ার পর পেট ভার তো দূর যদি ডায়েট করে থাকেন তাহলে ডায়েট মিস করলেন বলে অপরাধ বোধেও ভুগতে হবে না, বলছিলেন ইন্দ্রজিৎ, যিনি আবার রাস্তার ধার থেকে ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁর বিরিয়ানি চেখে দেখতে ভালোবাসেন। দে সরকার বাড়িতে আসলে সবাই রাঁধতে ভালোবাসেন। দাদুকে রাঁধতে দেখেছেন, বাবাকেও দেখেছেন। ফলে ওরা দুই ভাইয়ের জন্য সেটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। গ্যাস ওভেন পর্যন্ত হাত পৌঁছতেই রান্না ধরে ফেলেছেন ওরাও। বাবার রান্নার শখ তো প্রায় পাগলামির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। মুখ বন্ধ হাঁড়িতে স্টেথেস্কোপ লাগিয়ে ভাত অথবা মাংসের বুদবুদের আওয়াজ শুনতেও দেখেছেন বাবাকে। আসলে কখন আঁচ থেকে হাঁড়ি সরিয়ে আনতে হবে সেটাই বোঝার চেষ্টা করতেন’, হাসতে হাসতে বলছিলেন অভিজিৎ।

২০১০ এ দিল্লিতে খাবারের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন দে সরকার ভাইয়েরা। নানা কারণে নিজেদের শহরে আসা হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তৃতীয়বারের চেষ্টায় নিজের শহরে জ্যাকপট খুঁজে পান দুই ভাই। Haan 'D' Biryani টেক অ্যাওয়ে আউটলেট। ফলে বসে খাওয়ার ব্যেবস্থা থাকবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবে আউটলেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। আউটলেট থেকে খাবার নিয়ে গাড়িতে বসে খেয়ে নেওয়া যেতে পারে। গুগুল প্লে স্টোর থেকে অ্যা প নামিয়ে নেওয়া যেতে পারে। খাবার পছন্দ করুন আর অর্ডার দিন। জানিয়ে রাখুন ডেলিভারি দিতে হবে নাকি নিজে এসে নিয়ে যাবেন। করা যাবে অ্যা ডভান্স বুকিংও।

এবার মেনুতে আসি। এতদিন শুধু লো ফ্যা টের বিরিয়ানি অর্ডার মতো সাপ্লাই করে গিয়েছেন ইন্দ্রজিৎরা। এবার আর তা নয়। Haan 'D' Biryani এর আউটলেটে বিরিয়ানির সঙ্গে মিলবে হরেক রকম কাবাব। চিকেন আফগানি কাবাব, চিকেন টিক্কা কাবাব। তাছাড়া শাম্মি কাবাব ভুরজি কাবাব মেনুতে সেরা আইটেম। কিছুদিন পরে আসছে গালুটি কাবাব। আগাম খবর দিয়ে রাখলেন অভিজিৎ।

সবে শুরু। খাদ্যিরসিক বাঙালির জন্য দুই ভাইয়ের রসুইয়ে আরও অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। এখন শুধু আউলেট হলেও পরে রেস্তোরাঁয় আকার দেওয়ার প্ল্যান আছে। মেনুতে পদও বাড়বে আরও অনেক। সবটাই নির্ভর করছে লো ফ্যাট বিরিয়ানি কতটা গ্রহণ করছেন খাদ্যপ্রিয় বাঙালি তার ওপর। তবে নিজেদের ইউএসপি অর্থাৎ ডালডা ছাড়া হালকা বিরিয়ানির রেসিপি ভেঙে বেরোনর কথা ভাবতেই পারেন না উদ্যোক্তা ভাইয়েরা।

Add to
Shares
471
Comments
Share This
Add to
Shares
471
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags