সংস্করণ
Bangla

গুরগাঁও পারলে অন্যরাই বা পারবে না কেন!

sananda dasgupta
9th Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

শেষ দুই দশকে তথ্যপ্রযুক্তি, আউটসোর্সিং, উৎপাদন আর এখন শুরুয়াতি ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিলেনিয়াম সিটি গুরগাঁও। শুরুটা হয়েছিল ৯০এর দশকের গোড়ায় যখন মারুতি-সুজুকি ও হিরো হন্ডা তাদের উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করে এখানে। রফতানি সংস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ও আরও নানাধরণের সংস্থা-ব্লু চিপস, কেপিও এবং বিপিওরাও নয়ডা ও দিল্লির বদলে গুরগাঁওকেই বেছে নেয়। গুরগাঁওয়ের এই গড়ে ওঠাকে উদযাপন করতে গত ১ নভেম্বর হরিয়ানা দিবসে, গুরগাঁও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ইওরস্টোরির সঙ্গে একটি সামিটের আয়োজন করে।

image


উপস্থিত নাগরিক, বিশেষজ্ঞ, সরকারি আধিকারিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুরগাঁওয়ের কমিশনার বিকাশ গুপ্তা বলেন একটি শহরের এই উন্নয়ন একমাত্র সম্ভব যখন তাত্ত্বিক ও কর্মীরা একযোগে এক লক্ষ্যে কাজ করেন।

গুরগাঁও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিশ্বমানের যান চলাচল ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

গুরগাঁওয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে একটি একাত্মতা বোধ জাগিয়ে তোলাই উদ্দেশ্যে গুরগাঁও স্টোরির। এছাড়া সমাজের বিভিন্ন অংশের ও পেশার মানুষ যারা গুরগাঁওয়ের উন্নয়নে সচেষ্ট তাদের একটি মঞ্চে এনে মতামত আদানপ্রদানের ব্যবস্থা করাও উদ্দেশ্য।

সামিট শুরু হয় মিলিন্দ সোমান ও অভিষেক মিশ্রর আলোচনার মধ্যে দিয়ে। অভিষেক মিশ্র এই দি সকালেই, প্রথম মিলেনিয়াম সিটি রানের আয়োজন করেছিলেন। মিলিন্দ সোমান, অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ ও আয়রনম্যান শরীর এবং পরিবেশকে সুস্থ রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবর্তনেরই শুরু আপনি। নিজেকে ভালবাসলেই আপনি আপনার চারপাশকে ভালবাসতে পারবেন। আমি গত একদশক ধরে গুরগাঁওয়ে আসছি এবং দ্রুত নগরায়ন দেখেছি. তবে, দূষণ ও যান চলাচল শহরে অব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে”।

image


গুরগাঁওয়ের গড়ে ওঠা নিয়ে বলতে গিয়ে গুরগাঁও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ডেপুটি কমিশনার টি সত্যপ্রকাশ বলেন, “নব্বইয়ের দশকে খুবই বিনম্র শুরু করেছিল গুরগাঁও এবং এখন বিনিয়োগ আকর্ষণের দিক থেকে তা বহু শহরকে ছাড়িয়ে গেছে। একজায়গায় পড়ছিলাম ভারতে এখন মোট আটটি স্টার্টআপ ইউনিকর্ন রয়েছে যার মধ্যে তিনটি গুরগাঁওয়ের”।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অভূতপূর্ব নগরায়ন দূষণ ও যানজটের মতো নানা সমস্যা ডেকে এনেছে। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন প্রতি সপ্তাহে গাড়িহীন মঙ্গলবারের মতো নানা পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিচ্ছে। “এই ধরণের উদ্যোগ বাতাসে টক্সিন কম করা বা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে”, বলেন জনপ্রিয় গায়িকা শিবানী কাশ্যপ। শিবানীর পরিবার গত একদশকের ওপর গুরগাঁওতে বসবাস করছে।

যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে প্রযুক্তি। Shuttl ও Ola এর মতো পরিষেবা গুরগাঁওয়ের বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত যানের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত করছে। গুরগাঁওয়ের সব এলাকায় মেট্রোরেল পরিষেবা নেই এবং তা এখানকার যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট নয়। মাত্র ৩৩,০০০ যাত্রী মেট্রোতে যাতায়াত করেন। যাতায়াতব্যবস্থা শহরের একটি অন্যতম চিন্তার বিষয়।

image


দ্য গুরগাঁও স্টোরি সামিটে একটি আলোচনা চক্রে গুরগাঁওয়ের নগরায়নের বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা চক্রে উপস্থিত ছিলে অ্যাসোসিয়েশন অফ স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট আন্ডারটেকিং (ASRTU) এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি.এল আনন্দ রাও। তিনি বলেন, “আমি মনে করি Shuttl, Zipgo, Ola ও carpooling এর মতো যান পরিষেবাগুলি ব্যক্তিগত যানের ব্যবহার কমাবে”। এছাড়াও মাউস চার্মার বইয়ের লেখক অনুরাধা গয়াল, আর্কিটেক্ট হর্ষ শ্রীধর, iSeed এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা দীপক পন্ডিত ও অন্যান্যরা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দর্শকাসনে ছিলেন প্রায় ২০০ জন।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags