সংস্করণ
Bangla

টীকাকরণে ইন্ডিভ্যাকের ডোর টু ডোর পরিষেবা

Sujoy Das
8th Dec 2015
  • Share Icon
  • Facebook Icon
  • Twitter Icon
  • LinkedIn Icon
  • Reddit Icon
  • WhatsApp Icon
Share on

শরীর খারাপ হলে ঘরে বসে ডাক্তারি পরিষেবা বা প্য়াথোলজিক্য়াল টেস্টের পরিষেবা মিলছে সেই আদ্য়িকাল থেকে। তবে কোনো অজানা কারনে আজ অবধি বাড়িতে বসে ভ্যাক্সিনেশনের সুযোগ পাওয়া অধরাই ছিল। দুমাসের ছোট শিশু হোক বা অ্যাডভ্যান্স স্টেজের গর্ভবতী মহিলা, সময়মতো ভ্যাক্সিন নিতে হলে সবাইকেই ছুটতে হতো ডাক্তার বাবুর চেম্বারে। পথে আসা যাওয়ার ঝক্কি তো ছিলই, এছাড়াও দোসর ছিল ডাক্তারবাবুর চেম্বারে অসুস্থ শরীরে, ঘন্টার পর ঘন্টা ওয়েট করা। এই সব ঝামেলা থেকে এবার কলকাতার মানুষকে মুক্তি দেবে ইন্ডিভ্যাক।

কথায় বলে “Necessity is the mother of all invention” ঠিক তারই প্রমাণ দিলেন কলকাতার ছেলে অমিত অগরওয়াল।দুই সন্তানের বাবা অমিত দেখেছিলেন ব্যাবসার ফাঁকে নিজের বাচ্চাদের টীকাকরণে কী রকম নাকাল হতে হয়! কোনওবার কাজের চাপে বাচ্চার টীকা দেওয়ার কথা ভুলেও যেতেন। তো কখনও অন্য কাজের চাপে পিছিয়ে যেত টীকা দেওয়ার ডেট। আর এই সব ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরী করে ফেলেছেন এই ডোর টু ডোর ভ্যাক্সিন পরিষেবা।

image


কিভাবে কাজ করে ইন্ডিভ্যাক

তাদের টোল ফ্রি হেল্পলাইনে ফোন করে আপনার বাচ্চার বয়স আর কোন, কোন ভ্যাক্সিন দেওয়া এখনও বাকি আছে তা জানান। এরপর নির্দিষ্ট দিনের আগে আপনাকে রিমাইন্ডার পাঠাবে ইউনিভ্যাকের টিম। তারপর নির্ধারিত দিনে বাড়ির দরজায় ভ্যাক্সিন দিতে পৌছবেন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মেডিকেল কর্মীরা। ভ্যাক্সিনের গুণমান নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই থেকে সাত ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে তা সংরক্ষণ করার কথা। আর এই কারণে ব্যাটারি চালিত মিনি রেফ্রিজারেটরে করে ভ্যাক্সিন সরবরাহ করেন ওঁরা।

সংস্থার সিইও অমিত অগরওয়াল ব্যাবসায়ী পরিবারের ছেলে। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে যখন বাবার ওষুধের ব্যবসা সামলানোর কাজে হাত লাগান তখন তার বয়স মাত্র ষোল বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার ব্যবসার পাশাপাশি আলাদা ব্যবসা গড়ে তোলেন অমিত। হায়দ্রাবাদে ডায়েবেটিক পেসেন্টেদের জন্য খুলেছেন স্পেশাল ক্লিনিক। ক্লিনিকে রেজিস্টার্ড রোগীর সংখ্যা কমকরে ২৫০০০। কিন্তু আর্থিক সাফল্য করায়ত্ত হলেও নতুন কিছু করার তাগিদ ভিতরে তাড়িয়ে বেড়াত। নিজের বাচ্চাদের ভ্যাক্সিনেশনের সময় দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে আইডিয়াটা মাথায় আসে।

অমিতের নিজের কথায়, "একবার খুব কাশিতে ভুগছি সেসময় ডাক্তার খানায় বাচ্চাকে দেখাতে গেলাম, ডাক্তার বাবু বললেন বাচ্চার থেকে দূরে থাকতে নাহলে বাচ্চারও হতে পারে। জিজ্ঞেস করলাম ডাক্তারবাবু এই যে আপনার চেম্বারে এতক্ষণ এতজন অসুস্থ বাচ্চার সঙ্গে বসে রইলাম তাতেও তো সংক্রমন হতে পারে। তার উত্তর ছিল হলেও আমার এতে কোনও কিছু করার নেই। এত অসুবিধা হলে পাড়ায় কোনও কম্পাউন্ডারকে দিয়ে ভ্যাক্সিন দিয়ে নিন। ভাবলাম এই ছবিটা এবার পাল্টানো উচিত।কম্পাউন্ডারের কাজ কেন ডাক্তারেরা করবে। এছাড়াও কোনও দিনই দেখিনি কোনও ডাক্তারবাবু ভ্যাক্সিনের কোনও বিল দিচ্ছেন। ডিসকাউন্ট আছে কিনা তাও জানতে পারতাম না।আর বক্সে ক্যারি করা ভ্যাক্সিন যে সবসময় নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে কিনা তাও ভাবাত আমাকে।“

image


ভাবনা থেকেই কাজ। ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল কিন্তু পরিকল্পনা করতে গিয়ে বুঝলেন শুধু অভিজ্ঞতা নয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রযুক্তির মিশেল হলেই সঠিকভাবে কাজটা করতে পারবেন। গাঁটছড়া বাঁধলেন রিফিল মাই কার্টিজের কর্ণধার বন্ধু অলকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে। প্রযুক্তির ব্যাপারটা সামলালেন অলকেশ। তারপর দীর্ঘ কয়েক মাসের প্রস্তুতি কলকাতায় পা রাখল ইন্ডিভ্যাক। বর্তমানে উত্তরে সিঁথি থেকে দক্ষিণে বেহালা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে এই পরিষেবা। শুধু শিশু নয় প্রেগন্যান্ট মহিলা ও বয়স্করাও নিতে পারছেন এই ডিসকাউন্টেড ভ্যাক্সিনেশন পরিষেবার সুযোগ। অমিত অলকেশের পরিকল্পনা রয়েছে দেশের অন্যান্য শহরেও এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার। ইতিমধ্যেই কলকাতায় বেশ জনপ্রিয় হয়েছে অমিতের উদ্যোগ। কলকাতার ভ্যাক্সিনেশনের ছবিটা একটু হলেও পাল্টাতে পেরে আজ খুশী অমিত। স্বপ্ন দেখেন এমন এক দিনের যখন ঘরে বসেই বাড়ীর ভ্যাস্কিনেসনের কাজ মিটিয়ে ফেলতে পারবেন সবাই।

  • Share Icon
  • Facebook Icon
  • Twitter Icon
  • LinkedIn Icon
  • Reddit Icon
  • WhatsApp Icon
Share on
Report an issue
Authors

Related Tags