সংস্করণ
Bangla

সেতু দুর্ঘটনায় উঠে এল কলকাতার অন্য ছবিও

3rd Apr 2016
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

এক, দুই, তিন, চার...ছাব্বিশ,সাতাশ, আঠাশ, বাড়ছে, ক্রমশ বাড়ছে লাশের সংখ্যা। পোস্তায় বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়ার কয়েক দিন পরও, ধ্বংস্তূপ যত সরছে, একে একে পচা,গলা, বিকৃত দেহগুলি বেরিয়ে আসছে। ভোটের মুখে এমন হাতে গরম ইস্যু, রাজনীতি করতে ছাড়ছে না বাম-ডান কেউ। বাম না তৃণমূল আমল, সেতু ভেঙে পড়ার পেছনে কার ‘অবদান’ সবচেয়ে বেশি তা নিয়ে যখন দোস্তি-কুস্তিতে ব্যস্ত রাজনীতির কাণ্ডারিরা, তখন একদল খুদে দেখাল ক্ষুদ্র, তবু তারা তুচ্ছ নয়। বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে বড়দের সাহায্যে করা শিখেছে। পোস্তায় নির্মীয়মান উড়ালপুলের একাংশ ভেঙে পড়ার পর আতঙ্কে তাই সরে যায়নি ওরা। চোদ্দ–পনেরো বছরের স্কুলপড়ুয়ারা এগিয়ে এসেছে উদ্ধারকারীদের সাহায্যক করতে। দেখিয়ে দিয়েছে, বয়সে ছোট হলেও, কাজে তারা অনেকের চেয়ে অনেক বড়।

image


সায়েন্টোলজি ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার সার্ভিস। যে কোনও সাহায্যে সদা হাত বাড়িয়ে দেন সংস্থার সদস্যোরা। ছাব্বিশ এগারোর মুম্বই হামলা থেকে ৩১ মার্চ পোস্তার নির্মীয়মাণ উড়ালপুল ভেঙে পড়া। ছোটদের সঙ্গে নিয়ে সংস্থাটি নেমে পড়ে সাহায্যে । কারও বয়স ষোলো, কারও চোদ্দ, কারও তারও কম। সায়েন্টোলজি সার্ভিসের মূল শক্তি এরাই। ভেঙে পড়া উড়ালপুলের গায়ে হাত রেখে অতি উৎসাহীদের সেলফি তোলার হিড়িক। কেউ কেউ স্রেফ তামাশা দেখতে ভিড় বাড়িয়েছেন ঘটনাস্থলে, তখন সায়েন্টোলজির এই সেনাণীরাই ক্লান্ত উদ্ধারকারীদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে জলের বোতল।

image


বিপদ থেকে সরিয়ে রাখার বদলে সায়েন্টোলজি ছোটদের নিয়ে এসেছে বিপদ থেকে উদ্ধারের কাজ করাতে। ‘গত ১০ বছর ধরে কলকাতায় ছোটদের নিয়ে কাজ করছি। বিপজ্জনক পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হয়,তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ছেলেমেয়েদের। ভয়কে জয় করেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই স্কুলপড়ুয়ারা’, জানালেন সংস্থার কলকাতা শাখার সভাপতি মহম্মদ খালিফউল্লা।

image


নীতা দাস, বিজলি রানারা নির্ভীক। এইটুকুন বয়েসেই শিখে গিয়েছে জীবন বাজি রেখে কীভাবে আর্তের পাশে দাঁড়াতে হয়। বড়দের মতো অতটা ঝুঁকি নিতে হয়ত এখনও শিখে ওঠা হয়নি,তবু হাতে হাত লাগিয়ে সাহায্যের কাজটা করেই চলেছে। এমনকী বড়দের টক্কর দিতে ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে উঠছে ওরাও। ‘ভয় লাগবে কেন? ভালোই লাগে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তার জন্য যেখানে খুশি যেতে পারি ’, কচি অথচ দৃপ্ত কণ্ঠে বলছিল সুমিতা, সুমনরা।

image


এই–ই বোধহয় শিক্ষা। জীবনের শিক্ষা। পুঁথির বাইরে বেরিয়ে রুখুসুখু মাটির পৃথিবীতে বাঁচার, বাঁচিয়ে রাখার পাঠ। বিপদের সঙ্গে যুঝে অন্য কে বিপদ থেকে বের করে আনার লড়াই ওরা শিখেছে। সায়েন্টোলজি ইন্টারন্যারশনাল ভলান্টিয়ার সার্ভিসের ছোট সেনাণীদের, তাদের এই সাহস আর কাজকে কুর্ণিশ।

image


Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags