সংস্করণ
Bangla

নারীত্বকে উপভোগ্য করে তুলছেন রাশি

বারাণসীর লড়াকু মেয়ে রাশি বাজাজ। ‘কার্পেট কিচর্’ দিয়ে শুরু করে ‘বিইং জুলিয়ট’। ঋতুচক্রের কঠিন দিনগুলোর আগেই রাশির পাঠানো গিফট বক্স পৌঁছে যায় মহিলাদের কাছে। আত্মবিশ্বাসে ভর্তি রাশির বাক্সয় আর কী কী থাকে?

Chandrochur Das
22nd Aug 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
রাশি এখন সফল নারী

রাশি এখন সফল নারী


অফিস, বাড়ি, ছেলে-মেয়ের স্কুল সামলে আধুনিক নারীর নিজের জন্য সময় বার করার সময় থাকে না। ব্যস্ত সিডিউলের চা‌পে অনেকেই ভুলে যান তাঁদের জীবনের ‌সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক বিষয়গুলো। মাসিক। যা যেকোনও নারীর জীবনে ফি-মাসের একটি স্বাভাবিক জীবনচক্র। কিন্তু সে দিনটার কথা অনেক সময়ই কাজের চাপে বেমালুম ভুলে যান আধুনিক মহিলারা। মহিলাদের এই মাসিকের দিন ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বা মাসিকের দিনগুলিতে তাঁদের অস্বস্তি, যন্ত্রনার কথা মাথায় রেখে ‌তৈরি বিইং জুলিয়ট। রাশির মতে, ওসব দিনগুলোতে মহিলাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে বিইং জুলিয়ট অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

একটা উপহারের বাক্স। যা একজন মহিলার মাসিক শুরুর দিন চার-পাঁচ আগেই পোঁছে যায় তাঁর কাছে। মনে করিয়ে দেয় দিনটা আসছে। উপহারের বাক্সে থাকে যথেষ্ট সংখ্যক স্যানিটরি ন্যাপকিন। আর থাকে একগুচ্ছ ছোটছোট নতুনত্বে ভরা মন ভাল করা উপহার। যা ওই দিনগুলোতে কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দেবে মহিলাদের কষ্ট, যন্ত্রনা। মন ভরিয়ে তুলবে একরাশ খুশিতে।

image


বারাণসীর অদূরে একটা ছোট্ট শহরে জন্ম রাশির। সেখনেই পড়াশোনা। প্রথম থেকেই পড়াশোনায় ছিল অদম্য আগ্রহ। মেয়ের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে রাশির বাবা-মা তাকে নৈনিতালের বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করে দেন। পরে দেরাদুনের ওয়েলহোমে বেশ কিছুদিন পড়াশোনার পর ভাল নম্বরের সুবাদে সহজেই সুযোগ পান দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজে। রাশির মতে জীবনে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তার পাঠ তিনি পেয়েছিলেন বাবার কাছে। কলেজ পার করে পুণে থেকে এমবিএ শেষ করেন রাশি। ইনফোসিসে চাকরি দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু হয় তাঁর। হায়দরাবাদে একবছর ইনফোসিসে কাজ করার পর বিয়ে করে দিল্লি চলে যান রাশি বাজাজ।

বিয়ের পর রাশি ও তার স্বামী দু’‍জনেই ঠিক করেন তাঁরা ব্যবসা করবেন। কিন্তু দু’জনের এভাবে ব্যবসায়ে পা বাড়ানোকে পরিবারের লোকজন সমর্থন করেননি। বরং একজনকে স্থায়ী চাকরির রাস্তায় যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভাকাঙ্খীরা। কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন স্বামী-স্ত্রী।

ব্যবসায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সেই লড়াইয়ের দিনগুলোয় যেমন ছিল মূলধনের অপ্রতুলতা, তেমনই ছিল দিনভর মানসিক চাপ। সেই অবস্থাতেও আত্মিবশ্বাস হারাননি রাশি। মনকে শক্ত রেখে পরিবার ও ব্যবসার মধ্যে সমানতালে ভারসাম্য রেখে গেছেন তিনি।

সেদিনের সেই আত্নবিশ্বাসকে পুঁজি করে একদিন রাশির হাতেই জন্ম নিল তাঁর প্রথম সফল প্রয়াস ‘কার্পেট কিচর্’। নতুন নতুন ডিজাইনের কার্পেট ও কম্বল তৈরির এই প্রতিষ্ঠান দ্রুত সকলের নজর কাড়ল। বেড়ে চলল রাশির ক্লায়েন্টের সংখ্যা। ‘কার্পেট কিচর্’এর সাফল্য রাশিকে আর একটি নতুন উদ্যোগ শুরুর অনুপ্রেরণা যোগাল। পাশে পেলেন স্বামীকে। স্বামীর উ‌‌ৎসাহেই শুরু হল তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস বিইং জুলিয়ট।

রাশি বাজাজ

রাশি বাজাজ


কিছু অর্থের বিনিময়ে নাম তালিকাভুক্ত করলেই মহিলাদের মাসিকের দিনগুলোর যাবতীয় চিন্তা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয় বিইং জুলিয়ট। রাশির এই সাফল্য নতুন মহিলা উদ্যোগীদের জন্য অবশ্যই একটা অনুপ্রেরণা। তবে রাশি বাজাজের নিজের মতে, এখনও কোথাও যেন মহিলাদের পক্ষে পুরুষের সমতুল্য হয়ে ওঠায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সে ঘাটতি যোগ্যতার নয়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবসায়ী হিসাবে পথ চলার। সে একা প্লেনে কোথাও যাওয়াই হোক অথবা এক শহর থেকে অন্য শহরে সড়কপথে যাতায়াত। অথবা ব্যবসার কাজ সেরে গভীর রাতে একা বাড়ি ফেরা। তবে তাঁর বিশ্বাস এসব চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে আরও বেশি করে মেয়েরা ব্য বসায় এগিয়ে আসবে। দেখিয়ে দেবে তাঁরাও পারে বেনজির সাফল্যের নজির গড়তে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags