সংস্করণ
Bangla

কলকাতায় 'অ্যাকসিলারেশন ল্যাব' আনছে ইন্ডাস নেট টেকনোলজিস

YS Bengali
23rd Sep 2016
Add to
Shares
6
Comments
Share This
Add to
Shares
6
Comments
Share

কলকাতার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে গত তিনমাসে চারটে সংস্থা বলছে তাঁরা ইনকিউবেশন সেন্টার খুলছেন। অনেকে কোওয়ার্কিং স্পেস খোলার মধ্যেই ব্যবসার কিক খুঁজে পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ পাতলেই দেখবেন সদ্য তৈরি হওয়া অ্যকসিলারেটরদের পোস্ট। অনেকগুলো প্লেয়ার একসঙ্গে ঢুকে পড়েছে এই ফাঁকা মাঠে নিজের নিজের স্পোর্টিং কিট নিয়ে।

image


এত প্লেয়ার দেখে হকচকিয়ে গেছেন স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা। কিংকর্তব্যবিমূঢ়... কী করবেন... কার কাছে গেলে ঠিক উপদেশ পাবেন, তা বুঝে উঠতে উঠতেই নজরে পড়ছে হরি ঘোষের গোয়ালের ছবিটা।

একটা কথা খুব সোজা, যিনি কখনও নিজে হাতে ব্যবসা করেননি তিনি কখনওই আপনাকে সঠিক উপদেশ দিতে পারবেন না। এতো আর ক্লাস রুম নয়, মাস্টার মশাই পুঁথি দেখে আপনাকে শিখিয়ে দেবেন নিউটনের তিনটে সূত্র আর আপনি জেনে যাবেন, কত ধানে কত চাল। নবীন উদ্যোগপতিরা, যাদেরকে আমরা স্টার্টআপ বলে চিনি তাঁরা তো দিনের শেষে ব্যবসাই করছেন, লাভই তো তাদের একমাত্র টার্গেট। আঙুর ফল টক গোছের কমেন্ট করে যদি কেউ বলেন লাভ নয় ভ্যালুয়েশন বাড়ানো কিংবা ইউজার বেস বাড়ানো টার্গেট, জানবেন তিনি আসলে বেদনায় মলম লাগাচ্ছেন।

লাভ, টাকার অঙ্কে সাফল্যের পরিমাপ করার নামই ব্যবসা। আর বাঙালিকে এই ব্যবসাটা হাতে ধরে শেখাবেন এমন একজন মানুষ যিনি নিজে এভাবেই ব্যবসা করেছেন। বছর কুড়ি আগে মাত্র ৫০ টাকা পকেটে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন আর আজ নিজের যোগ্যতায় চল্লিশটি দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য। ইন্ডাসনেটের কর্ণধার অভিষেক রুংটার কথা আপনারা আগেও পড়েছেন বাংলা ইওরস্টোরির পাতায়। এবার জেনে নিন কলকাতার স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে তার নতুন অবদানের কথা।

image


খুব শিগগিরই তাঁর সংস্থা শুরু করতে চলেছেন কলকাতার প্রথম ডিজিটাল অ্যাকসেলেরেশন ল্যাব। নাম দিয়েছেন ইন্ডাস নেট ল্যাব। সেখানে তিন মাসে খুব বেশি হলে চারটে সংস্থাকে ইনকিউবেট করা হবে। মেন্টরশিপ দেওয়া হবে। হাতে ধরে শেখানো হবে ব্যবসার খুঁটিনাটি। তিন মাস একটা পয়সাও নেবে না অভিষেকের সংস্থা। কানাকড়ির ইক্যুইটিও চান না অভিষেক। শুধু পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে মজবুত করার লক্ষ্যেই কাজ করছেন তিনি। এভাবে তিন মাসে চারটি, বারো মাসে ষোলোটি সংস্থাকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে চান অভিষেক রুংটা। তিন মাস পর যদি ওই সংস্থা চায় অভিষেকদের হাত ধরে আরও পথ এগোতে ওদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্যবসা বাড়াতে তবেই বাণিজ্যিক ভাবে ওই সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবে ইন্ডাসনেট। নচেৎ নয়।

ডিজিটাল স্টার্টআপদের মধ্যে থেকে শুধু চারটি সেগমেন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কেটিং টেকনোলজি, ফিন-টেক সংস্থা, রিটেল টেক সংস্থা এবং যেকোনও ব্যবসা চালানোর জন্যে ক্রিটিকাল সলিউশন দেয় এমন সংস্থাকেই সাপোর্ট দেওয়া হবে। বিজনেস টু বিজনেস ব্যবসা করেন এমন সংস্থাই খুঁজছে ইন্ডাসনেট।

অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে শুরু হবে অ্যাপ্লিকেশন জমা নেওয়া। প্রাথমিক ভাবে বাছাই হলে পাবেন সুযোগ। চারজন মেন্টর নিয়ে শুরু হলেও খুব শিগগিরই মেন্টর বোর্ডে ঢুকতে পারেন আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন এক্সপার্ট। নির্দিষ্ট ভাবেই জেনারেল মেন্টরিং যেমন থাকবে তেমনি থাকবে এরিয়া স্পেসিফিক এবং প্রতিটি সংস্থার আলাদা আলাদা সমস্যা সমাধানের জন্যে পৃথক মেন্টরিংয়ের সুযোগ।

প্রযুক্তি থেকে পরিকাঠামো তিন মাসের জন্যে বিনে পয়সায় দেবে ইন্ডাসনেট। ইন্ডাসনেটের সল্টলেক ক্যাম্পাসে এক হাজার স্কোয়ারফিট স্পেস দেওয়া হচ্ছে। এরকম উদ্যোগ কলকাতায় এই প্রথম হলেও পুনে বেঙ্গালুরুর মত স্টার্টআপ শহরগুলিতে দারুণভাবে আছে। কিন্তু কলকাতায় এই ধরণের প্রকল্প শুরু করতে চলেছেন অভিষেক। বলছিলেন তিনি আসলে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সমীর গুগলানি, নন্দিনী হিরানিয়ার মরফিউস গ্যাং থেকে। এটিই দেশের সব থেকে প্রাচীন এবং সফল অ্যাক্সিলেরেটর। এদের তত্ত্বাবধানেই মসৃণভাবে পর পর নব্বইটি স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে গত সাত আট বছরে।

Add to
Shares
6
Comments
Share This
Add to
Shares
6
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags