সংস্করণ
Bangla

হাওড়ার বাজারে ইলা মুখার্জিই ব্র্যান্ড

patralekha chandra
30th Jan 2016
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

তরুণ উদ্যোগপতিদের নিয়ে আমাদের উৎসাহের অন্ত নেই। আজ এক তরুণীর গল্প শোনাবো। নাম ইলা মুখার্জি। থাকেন হাওড়ার বাউরিয়ায়। বয়স ৭০। ঘাবড়ে গেলেন বুঝি। হ্যাঁ এই বয়সেই চেগে উঠেছেন ইলা। পড়াশুনোর বেলায় বয়স কোনও বাধা না হলে ব্যবসা করার বেলায় হবে কেন। তাই খুলে ফেলেছেন একটা কোম্পানি। নাম মুখার্জি ফুড প্রোডাক্ট।

image


ইতিমধ্যেই তার ‘বিমল ব্র্যান্ড’ জ্যাম, জেলি, সস, আচার বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাঁটে কি টক্কর দিচ্ছে। হু হু করে মার্কেটে জায়গা করে নিচ্ছে এই ব্র্যান্ড। যে বয়সে সবাই অবসর নেন ইলা দেবী শুরু করলেন সেখান থেকেই। বার্ধক্য জনিত অসুখ শরীরে থাবা বসালেও তাকে প্রশ্রয় দেননি এই মহিলা। বরং শিরদাঁড়া সোজা করে সমস্ত বাধাকে ওভার বাউন্ডারি মেরে দেখিয়ে দিয়েছেন – এভাবেও ফিরে আসা যায়।

পুঁথি দিয়ে মালা তৈরি করে বিক্রি করতেন ইলা দেবী। পাড়ার বেশ কয়েকজন মহিলাও তার সাথে এই কাজ করতেন। কিন্তু তাতে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে ইলা দেবী খাদি গ্রামোদ্যোগ ভবনে প্রশিক্ষণ নেন। সেখানেই শেখেন জ্যাম, জেলি, সস, আচার তৈরি করার পদ্ধতি। আর দেরি করেননি। ২০০৭ সালে খাদি বোর্ড থেকেই ২ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়ে শুরু করলেন ব্যবসা। শুরু হল নতুন পথ চলা।

আড়াই কাঠা জায়গার উপর তৈরি হল ‘মুখার্জী ফুড প্রোডাক্ট’। যে মহিলারা তার সাথে মালা তৈরি করতেন তাদেরকেই নিজের কোম্পানিতে কাজ দিলেন। কৃষ্ণা, দীপিকা, লক্ষ্মী , সনকারা ইলা দেবীর হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেল। এখন কর্মীর সংখ্যা ১২। দিন দিন চাহিদা বাড়তে থাকায় কাজও বাড়ছে। তাই মাকে সাহায্য করতে লেগে পরেছেন ছেলে রবিনও।

টক ঝাল মিষ্টি বিভিন্ন স্বাদে জিভে জল আনা বিভিন্ন আচার বানিয়ে ইলা দেবীর ফুড প্রোডাক্ট মানুষের মন কেড়েছে। হাওড়ার বাউরিয়া ছাড়িয়ে অন্যান্য জেলাতেও ‘বিমল ব্রান্ড’ দারুণ জনপ্রিয়। বিশেষত কলকাতার মার্কেট দখল করতে পেরেছে ইলা দেবীর কোম্পানি। ডালহৌসিতে শাখা অফিস খোলা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে প্রচুর ডিস্ট্রিবিউটার। ২ লক্ষ টাকায় শুরু করা ব্যবসা আজ অনেকটাই বড়। মাদার ডেয়ারি, খাদি ভবনেও ইলা দেবীর ‘বিমল ব্রান্ড’ ফুড প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। যে স্বপ্ন নিয়ে ইলা দেবী পথ চলা শুরু করেছিলেন তা আজ সফল। নিজের জন্যেই লড়াই করেছেন এই মহিলা। কিন্তু তাঁর অজান্তেই তিনি হয়ে উঠেছেন গোটা হাওড়ার দরিদ্র মহিলাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা। একটা লড়াকু আইকন।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags