সংস্করণ
Bangla

পেটেন্ট আদায়ের উপায় শেখাচ্ছেন নাসরানি

29th Jan 2016
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
“চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা যদি না পড় ধরা”

বাংলায় এই প্রবাদ দারুণ জনপ্রিয়। চুরি তো শুধু আর জমি, বাড়ি, সম্পত্তিতেই সীমিত থাকে না, অন্যের পরিকল্পনা, ভাবনা এসবও টুকে নিয়ে দিব্যি নিজের বলে চালিয়ে দেন অনেকে। যাকে বলে ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি চুরি করা। সেরিব্রাল পাইরেসি। এই ধরণের চুরি ঠেকানোর অস্ত্র – কপিরাইট কিংবা পেটেন্ট। কিন্তু বললেই তো আর পেটেন্ট পাওয়া যায় না। সেই প্রক্রিয়া বেশ জটিল। পেটেন্ট আদায়ের জটিল অঙ্ককেই সহজ করেছে অরুণ নাসরানি ও কল্যাণ কাঙ্কানালার Brain League।

image


জীবনের জটিল অঙ্কের সমাধান

সংস্থার সহ প্রতিষ্ঠা অরুণের উদ্যোগপতি হয়ে ওঠার পথটাও জটিলই ছিল। সিনেমায় সহ পরিচালকের কাজ নিয়ে অরুণের বাবা চেন্নাই আসেন। স্বপ্নজগতে সাফল্যের হাতছানি। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলা থেকে তাঁর পরিবারও চেন্নাই চলে আসে। কিন্তু ছবি প্রযোজনার কাজে নামতেই বিপত্তি। স্বপ্ন ভেঙে খান খান। সর্বসান্ত হন অরুণের বাবা। ‘ঘটি-বাটি’ বেচে গোটা পরিবারকেও গুন্টুরে ফিরতে হয়। চেন্নাইয়ের বড় স্কুলে পড়াশোনা ছেড়ে গ্রামের স্কুলে যোগ দিতে হয় অরুণকে। তিনি তখন সবে ক্লাস এইটের ছাত্র। কখনও বাড়ির কাছে ছোট্ট দোকানে ভিডিও ক্যাসেট বেচে, কখনও আবার বেকারি খুলে, দিন চলত তাদের পরিবারের। ব্যবসা দেখতে গিয়ে ক্লাস এইটের ছাত্রটির লেখাপড়া হত না বললেই চলে। তবে স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসা সহপাঠীদের দেখে পড়াশোনা নিয়ে সিরিয়াস হয়ে ওঠেন অরুণ। ৭৪% নম্বর নিয়ে ক্লাস টেন পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। বাবাকে জানিয়ে দেন, দোকানে না বসে পড়াশোনায় বেশি সময় দেবেন। হাইসেকেন্ডারি পর্যায়ে ভাল স্কুলে লেখাপড়া ভর্তি করানোরও আব্দার করেন বাবার কাছে। অরুণের এইসব স্বপ্ন তাঁর পরিবারের কাছে ছিল আকাশ ভেঙে পড়ার সমান। তবে অরুণের বাবা ছেলের ইচ্ছেপূরণ করেছিলেন। অরুণও এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইআইটি মাদ্রাসে পড়ার সুযোগ পেয়ে যান।

image


ব্রেন লিগের জন্ম

গত দশকের গোড়ার দিকের কথা। আইআইটি থেকে পাস করে অরুণ প্রথমে Mphasis ও পরে কগনিজেন্টে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ম্যানেজমেন্ট পড়তে যোগ দেন আইআইএম ব্যাঙ্গালোরে। সেখানে পড়তে পড়তেই একসময়ের সহপাঠি কল্যাণ কাঙ্কানালার সঙ্গে অরুণের দেখা হয়। আমেরিকা থেকে আইন নিয়ে স্নাতকোত্তর করে কল্যাণ তখন ন্যাশনাল ল স্কুলে পিএইডি করছিলেন। পেটেন্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই দুজনে এর সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

পেটেন্ট পেতে গেলে জনৈক ব্যক্তিকে নিজের পরিকল্পনা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথোপযুক্ত প্রস্তাব পেশ করতে হয়। কিন্তু কীভাবে সেই প্রস্তাব পেশ করলে তা যুৎসই হবে, আইনের জটই বা কীভাবে কাটানো যাবে, এসব বলার মতো পরামর্শদাতা সে সময় বাজারে ছিল না বললেই চলে। এই শুন্যস্থান ভরাটের ভাবনা থেকে ২০০৪ সালে Brain League –এর জন্ম।

image


Brain League -এর কাজ

পেটেন্টের দরখাস্ত লিখে দেওয়া থেকে শুরু করে পেটেন্ট ফাইল করা ও শেষপর্যন্ত পেটেন্ট পেতে সাহায্য করে ব্রেন লিগ। কোনও ব্যক্তি হোক বা সংস্থা সবরকমের ক্লায়েন্ট নিয়েই তারা কাজ করে। সম্প্রতি bananaip ও ipmetrix নামে দুটি ব্র্যান্ডে ভেঙে কাজ করছে ব্রেন লিগ। আইপি মেট্রিক্সের দায়িত্বে রয়েছেন অরুণ নাসরানি আর ব্যানানা আইপি কল্যাণ কাঙ্কানালার অধীনে।

image


অনেক সংঘর্ষ করে ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন অরুণ নাসরানি। তাঁর মতে ধৈর্য ও নাছোড় মনোভাব, লক্ষ্যে স্থির থাকা এবং বাজারের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা থাকলেই সফল হওয়া যায়। তাই উঠতি উদ্যোগপতিদের জন্য ভগবত গীতাকে উদ্ধৃত করে অরুণ বলেন ‘কর্ম করে যাও, ফলের আশা করো না। সাফল্য আসবেই’।

লেখা: আদিত্যভূষণ দ্বিবেদী, অনুবাদ: ঋত্বিক দাস

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags