সংস্করণ
Bangla

ব্যস্ত প্রজন্মকে সাবেকি জলখাবারের স্বাদ দিচ্ছে EatonGo

sananda dasgupta
3rd Sep 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

কর্মজীবনের ব্যস্ততা যতই বাড়ছে, কমছে গুছিয়ে রান্না করে খাওয়ার সুযোগ। আর সবথেকে বেশি উপেক্ষিত বোধহয় সকালের জলখাবার। অফিস যাওয়ার আগে রান্না করে খেয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে। তাই হয় ভরসা ইন্সট্যান্ট নুডলস্, নয়তো দুটুকরো টোস্ট। পোহা, লিট্টিচোখা, কচুরি ইত্যাদি খাবারের স্বাদ প্রায় ভুলতেই বসেছে আজকের প্রজন্ম। আর এই খাবারগুলিকে বেঙ্গালুরুবাসীর টেবিলে ফিরিয়ে আনতেই শুরু EatonGo।

image


উদিত শরণ ও তরু রাজ আগরওয়াল, সম্পর্কে তুতো ভাই। কর্মসূত্রে একসঙ্গে থাকতেন বেঙ্গালুরুতে। প্রায় প্রতিদিনই কিছু না খেয়ে ছুটতে হত অফিস। সেখান থেকেই ভাবনা শুরু EatonGo এর। ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের অভিজ্ঞতা ছিলই, উদিত কাজ করতেন ডেলমন্ট, জেনেরাল মিলস ও পিলসবারিতে। তরু ছিলেন মাইন্ত্রা ওর ক্যাপিলারি টেকনোলজিস-এ।

তরু রাজ আগরওয়াল ও  উদিত শরণ

তরু রাজ আগরওয়াল ও উদিত শরণ


বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের থেকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পান তরু উদিতরা। পান বিনিয়োগের প্রথম রশদটুকুও। পরে সাফল্য যত এসেছে, টাকার যোগানও এসেছে।এখন তো জিএসএফ অ্যাক্সেলারেটরের রাজেশ সহনী ও বরুণ ঝওয়ার, শেফবাস্কেটের নিপুণ কাটিয়ালের মতো ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞ মানুষেরা বিনিয়োগ করছেন EatonGo তে।

image


ফেব্রুয়ারি মাসে যখন শুরু হয় কর্মী সংখ্যা ছিল আট। ইতিমধ্যেই সংখ্যাটা ৩০ এ পৌঁছেছে। এরমধ্যে রয়েছেন ১২ জন ডেলিভারি বয় ও ১২ জন রান্নার কাজ করার লোক। সপ্তাহে ১০০-১৫০ অর্ডার থেকে এখন সপ্তাহে অর্ডারের সংখ্যা ২,৫০০। বৃদ্ধির হার প্রতিমাসে ৫০ শতাংশ। বর্তমানে ৩০০০ এরও বেশি ক্রেতা রয়েছেন এই সংস্থার, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই নিয়মিত অর্ডার করেন। কোম্পানির আয় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। আপাতত তালিকায় রয়েছে ৩৬ রকমের খাবার ।

বর্তমানে ইন্দিরানগর, উলসুর, কোদিঢালি, মুরুগেসপাল্যা ও ডোমলুর সংলগ্ন এলাকায় খাবার পৌঁছে দেয় EatonGo, তবে ভবিষ্যতে মারাথালি, এইচএসআর লেআউট, কোরামঙ্গলা, ইলেকট্রনিক সিটি, সারজাপুর রোড ও হোয়াইটফিল্ড সহ পুরো দক্ষিণ বেঙ্গালুরুতে খাবার সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৈরি করা হবে অ্যানরয়েড এবং আইওএস মোবইল অ্যাপও।

image


রান্নার মান ও স্বাদ একই রাখার দিকে বিশেষ যত্ন নেয় EatonGo

নির্দিষ্ট করা হয়েছে প্রতিটা রান্নার রেসিপি, সেটা মেনেই রান্না হয়। অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্নার মশলাও নিজেরাই তৈরি করেন ওঁরা। তাই বিভিন্ন রন্ধনশিল্পী রান্না করলেও স্বাদ অপরিবর্তিত থাকে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও প্রতিটি খাবারের উপাদান নিয়ে আসা হয় সেটি যে অঞ্চলের খাবার সেখান থেকে। যেমন লিট্টি চোখা তৈরির জন্য বিহার থেকে আনানো হয় ছাতু, বা মসালাপোহার জন্য চিড়ে আনা হয় ইন্দোর থেকে। এতে স্বাদের আসল গুণমান বজায় থাকে,” বললেন তরু।

তরু আর উদিত মনে করেন ভুল এবং তা থেকে শিক্ষা, এটাই যেকোনও সংস্থাকে শক্তিশালী করে। এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষকে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা নিয়েই আগামিতে এগোতে চান উদিত।

“নিজেদের তৈরি করা ব্যবসাকে এভাবে ছড়িয়ে পড়তে দেখে খুবই ভাল লাগে। প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আমরা আরও নতুন নতুন দিকে ব্যবসার পরিসর বাড়াতে চাই ও নতুন পার্টনারশিপও তৈরি করতে চাই। আমরা চাই ব্রেকফাস্ট, ব্রাঞ্চ বা স্ন্যাক্সের ক্ষেত্রে একমাত্র নাম হয়ে উঠতে।

ইওরস্টোরির ফুড টেক ক্রাউডপিচ চ্যালেঞ্জে ১৭ টি নতুন ফুডটেক স্টার্টআপ অংশগ্রহণ করে। সুইগি, টাইনিআউল, ফ্রেশমেনু, হোলাশেফ এর মত নামী স্টার্টআপ গুলোর রমরমা থাকলেও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগের কিন্তু ঘাটতি নেই ফুডটেক সেক্টরে।বরং তা বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত প্রিয় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags