সংস্করণ
Bangla

মাখ্খান সিং বাটার চিকেন চাখতে চলুন গব্বরের ডেরায়

26th Jun 2017
Add to
Shares
15
Comments
Share This
Add to
Shares
15
Comments
Share

খেতে ঢুকে বিভ্রান্ত হবেন না। সিনেমা হল নয়, ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। হো চি মিন সরণির গব্বরস বার অ্যান্ড কিচেনে ঢুকলে এমন ধাঁধাঁয় পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তিন তরুণ উদ্যোক্তার হিন্দি সিনেমা নিয়ে প্রায় পাগলামো গোটা রেস্তোরাঁকে এমন রূপ দিয়েছে।খাবারের মেনুতেও ফিল্মি রসবোধ কানায় কানায় ভরা।

image


হর্ষ সোন্থালিয়া, আমান চিটলাঙ্গিয়া এবং অপূর্ব সালারপুরিয়া, শহরের প্রথম ম্যাক্সিকান রেস্তোরাঁ অ্যামিগো এই তিন তরুণ উদ্যোক্তার ব্রেন চাইল্ড। গতবাঁধা ভাবনা থেকে বেরিয়ে বরাবর নিজেদের আলাদা ভেবেছেন তাঁরা। তাই হো চি মিন সরণিতে নতুন রেস্তোরাঁ খোলার শুরুতেই প্ল্যান ছিল থিম থাকবে। মানুষ খেতে এসে উদরপূর্তির চেয়েও বেশি কিছু পাবেন। রেস্তোরাঁর নাম রাখলেন গব্বরস বার অ্যান্ড কিচেন।

‘কত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রেস্তোরাঁয় গিয়ে খেলেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পরিবেশন এবং ডেকোরেশনও রুচির পরিচয় দেয়। পরিবেশ থেকে খাবারের মান, পদের নাম সবকিছুর দিকে সমানভাবে নজর দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা’, বলেন হর্ষ। রেস্তোরাঁয় ঢুকতেই চোখে পড়বে শোলের বিখ্যাত ডাকু গব্বর সিংয়ের হাতে আঁকা ছবি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে গব্বর সিংয়ের নানা ডায়লগ। একটু ভেতরে ঢুকতেই আরও নানা পোস্টার। গোটা রেস্তোরাঁ দুটি ভাগে ভাগ করা। প্রথম অংশে পরিবেশের সঙ্গে মানানসই ব্রিক পেন্টেড ওয়াল। সারা দেওয়াল জুড়ে হিন্দি সিনেমার যত ডায়লগ। মোগেম্বো খুশ হুয়া, তেজা ম্যায় হু, ম্যায় হু তেজা, নায়ক নেহি খল নায়ক হু ম্যায়, এক চুটকি সিন্দুর, কানুন কি হাত ইতনে লম্বে নেহি হোতে, ধর্মেন্দ্রর মুখে সেই কটা লাইন-কুত্তে, কামিনে...ম্যায় তেরা খুন পি যাউঙ্গা-হিট হিন্দি ছবির যত জনপ্রিয় ডায়লগ স্লোগান আকারে স্থান পেয়েছে রেস্তোরাঁর দেওয়ালে। আছে রক্ত লাল প্রেক্ষাপটে গ্যাঙস অব ওয়াসিপুরের পোস্টার। সেই অগ্নিপথের বিজয় দীননাথ চৌহান, শোলের ঠাকুর, গব্বর সিংয়ের ছবি সাঁটা দেওয়ালের জায়গায় জায়গায়।

এবার যাওয়া যাক দ্বিতীয় অংশে। একটু ভেতরের দিকের এই জায়গাটির নাম রাখা হয়েছে হাইডআউট। ২৪ আসনের এই অংশটি হিন্দি সিনেমার সব ভিলেনদের থিম করে তৈরি। বার্থডে, কর্পোরেট লাঞ্চ, কিটিপার্টির জন্য বুক করা যেতে পারে। নীচু গড়নের সোফা আর কাউচে সাজানো, দেওয়ালে চোখ পড়লে মনে হবে জেলখানার ভেতরে আছেন। সামনেই পোস্টারে ঝুলছে কড়া জেলারের পোস্টার তাতে লেখা, হাম আংরেজ কি জামানা কে জেলর হ্যায়। টেবিলের ওপরের ডায়নিং, টি সেট, ক্রকারিতেও ফিল্মি সাজের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট।

রেস্তোরাঁর মেনুর কথা তো বলতেই হবে। ঠিক ধরেছেন, মেনুতেই ফিল্মি ছাঁচ থাকবে না হতেই পারে না। মাখ্খন সিং বাটার চিকেন, ক্রিমি গ্রেভির সঙ্গে বোনলেস চিকেন মুখে দিলেই গলে যাবে। কিমা পাও-কিমা বাইরে, ভেতরে পাউরুটি। একটায় হবে না, বারবার খেতে ইচ্ছে করবে। আম পাপড় চিকেন-আমের পাপড়ে মোড়া চিকেনের স্লাইস। খেতে খেতে দেওয়ালের পোস্টারগুলি পড়ে ফেলুন। বেগুন খেতে ভালোবাসলে একটুও না ভেবে পাতে নিয়ে নিন বাইগন কর্নেটো। মুচমুচে চিকেন পল্টি কাবাব মন ভরিয়ে দেবে।

‘গব্বর খাদ্যরসিকদের শুধু খাইয়েই ক্ষান্ত হয় না, খাওয়া বিষয়টাকে একটা অভিজ্ঞতায় পরিণত করি। বলা ভালো আমরা চাই যারা এখানে খেতে আসবেন, অভিজ্ঞতাকে অ্যাডভেঞ্চার হেসেবে নিন। স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে দেখনদারিতেও নজর দিই আমরা’, কীভাবে রেস্তোরাঁকে রেস্তোরাঁর চাইতেও বেশি কিছু ভাবাতে হয় বলছিলেন পার্টনার হর্ষ। খাবার পরিবেশনেও সেই ফিল্মি কায়দা। গলুটি কাবাব আর মিষ্টি শরমাল ব্রেড অর্ডার করলে টেবিলে হাজির হবে লখনউয়ের মিনি ট্রাক অথবা মিনি ওয়াগনে চেলো কাবাব। দিল্লি স্টাইলে বান্টা বটলে নানা ফ্লেভারের ড্রিঙ্কস। রাম মেশানো ম্যাঙ্গো পান্না- নাম রাম পান্না অথবা ভডকা শিকাঞ্জি মন ভরে যাবে। সব শেষে ধুম মাচা লে ডেজার্ট। ফ্রেশ মেঙ্গো, মেঙ্গো মোসে ভরা চকোলেট বল। কব্জি ডুবিয়ে ভোজন শেষে বলাই যায়, মোগেম্বো খুশ হুয়া!

সবে শুরু। অভিনব ভাবনা গিজগিজ করছে তিন উদ্যোক্তার মাথায়। এক্সক্লুসিভলি মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে থিম, গব্বর সিং, নানা ডায়লগ, ইতি মধ্যে খাদ্যরসিকদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। তাড়াহুড়ো নয়, সাবধানে এগোতে চান। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ আরএনডি চলতেই পারে,তবে এখনই গব্বরের শাখা খোলার কথা ভাবছেন না তিন উদ্যোক্তার কেউই। 

Add to
Shares
15
Comments
Share This
Add to
Shares
15
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags