সংস্করণ
Bangla

রাত বিরেতে বিরিয়ানির জন্যে আছে Kabuliwala

6th Nov 2017
Add to
Shares
100
Comments
Share This
Add to
Shares
100
Comments
Share

বাঙালির বিরিয়ানি বিলাস নিয়ে বলতে শুরু করলে শেষ হবে না। বিরিয়ানি নিয়ে হায়দরাবাদ লখনৌয়ের বিরাট নাম ডাক। কলকাতার বিরিয়ানির প্রসঙ্গ উঠলে লোকে মুখ চাওয়া চায়ি করে। কিন্তু পেটুক বাঙালির ঐতিহ্যের খানার সঙ্গে বিরিয়ানির দোস্তি বহুদিনের। রাত বিরেতে বিরিয়ানির জন্য মন উসখুশ করে অনেকেরই। প্রাণ চাইলেও পাওয়া কি অত সোজা? তবে ‘কাবুলিওয়ালা’ থাকলে সবই সম্ভব। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো দুপুর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত, যখনই ফরমায়েশ হবে, হাজির হবে বিরিয়ানির হাড়ি! এই কলকাতায়। এটাই কাবুলিওয়ালা, দ্য সিনফুল বিরিয়ানির ইউএসপি। আর এই ‘কাবুলিওয়ালা’র নেপথ্যে আছেন তিন বিরিয়ানি পাগল বন্ধু। যাদের মস্তিষ্কপ্রসূত টেক অ্যাওয়ে কাউন্টার বিরিয়ানি খাইয়ে চলেছে সারা শহরের মানুষকে।

image


গল্পটা শুরু হয়েছিল এভাবে। শুক্রবারের এক রাতে তখন প্রায় দশটা বাজে। হঠাৎ বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছে হয় শান্তনু শিকদারের। একের পর এক রেস্তোরাঁয় ফোন করে চলেছেন। এত রাতে এমন বায়না শুনে তো অনেকে বিরক্তই হন। সটান জানিয়ে দেন ডেলিভারি করা যাবে না। তখনই আইডিয়াটা মাথায় আসে শান্তনুর। কেন ১০টার পর বিরিয়ানি চাইলে পাওয়া যাবে না, কেন? সেই সময় তো অনেকেরই সবে সন্ধে। খিদে পেলে কী করবে মানুষ। দরকার তো পরতেই পারে। তখন থেকে ‘কাবুলিওয়ালা’র ভাবনা চিন্তা শুরু হয়।

বন্ধু প্রিয়ব্রত শিকদার এবং তারিক হুসেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কয়েকপ্রস্থ আলোচনা সেরে ফেলেন শান্তুনু। একরকম স্থির হওয়ার পর শুরু হল রিসার্চ। কোথায়, কীভাবে, কখন এবং কোন দিকটা মাথায় রেখে ব্যবসা শুরু করতে হবে তার ব্লুপ্রিন্ট ছকে ফেলার কাজ চলতে থাকে। হাতে পুঁজি বলতে গেলে একেবারেই নেই। বাড়ির থেকে ম্যানেজ করতে হবে। খালি হাতে ঘর নিয়ে রেস্তোরাঁ খুলে বসার সাহস করার কথা ভাবতেই পারছিলেন না তিন হবু উদ্যোগপতি। পিৎজার যেমন টেক অ্যাওয়ে হয়, বিরিয়ানিরই বা হবে না কেন। বরং তাই হোক। রেস্তোরাঁ খুলে বসার দরকার নেই। শুধু টেকঅ্যাওয়ে কাউন্টার হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটা গ্যারেজ থেকে শুরু হল তিন বন্ধুর ব্যবসা। তারিক বিরিয়ানি ডেলিভারি এবং অপারেশনের দিকটা দেখলেন। বিরিয়ানি কতটা সুস্বাদু করা যায়, তার মান এবং সঙ্গে আর কী কী দেওয়া হবে এইসব বিষয় নিয়ে ভাবনার দায়িত্ব নিলেন প্রিয়ব্রত। আর শান্তনু ব্যবসা কীভাবে বাড়াবেন তার পরিকল্পনা করে চললেন। তিন বন্ধুর পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় এক বছরের মধ্যেই ছোট্ট গ্যারেজ থেকে সল্টলেক, নিউটাউন এলাকায় তিন তিনটে আউটলেট খুলে ফেলেছেন ওরা। রে রে করে চলছে। দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাজারহাট, নিউটাউন, সল্টলেক তো বটেই শহরের বিভিন্ন জায়গার বিরিয়ানির অর্ডার নেওয়া হয়। ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। সেই সঙ্গে পরিকল্পনাও। আর বাড়ছে তৃপ্ত কাস্টমার।

ফলে রাত বিরেতে বিরিয়ানির আশ উঠলে চিন্তা নেই ফোন ঘোরান, পেয়ে যাবেন কাবুলিওয়ালার কাছে।
Add to
Shares
100
Comments
Share This
Add to
Shares
100
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags