সংস্করণ
Bangla

কত মাইনে পেতেন ইন্টারিভিউতে বলবেন না

YS Bengali
21st Nov 2016
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

একটা চাকরি ছেড়ে আর একটা চাকরি খুঁজতে গেলে ইন্টারভিউয়ের ডাক তো আসেই। ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রাথমিকভাবে এটা-সেটা কথাবার্তার পরে ব্যাপারটা যখন খানিক ভালভাবে এগোয় –সাধারণত সেইসময় নতুন নিয়োগ কর্তার তরফে কেউ না কেউ আপনার কাছে জানতে চান, আগের কম্পানিতে কি রকম পেতেন?

image


এই প্রশ্নের উত্তরটা আপনি কিন্তু নাও দিতে পারেন। বরং উত্তরটা না দেওয়াই বুদ্ধিমানের মতো কাজ। এর অনেক কারণও আছে। প্রথমত, ধরা যাক, আপনি বর্তমানে ৩৫ হাজার টাকা মাইনে পান। নতুন সংস্থায় চাকরি হলে আপনি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা মাইনে পাবেন বলে আশা করেন। কিন্তু যেই ওঁরা ইন্টারভিউ বোর্ডে বসে জেনে ফেললেন পূর্বতন সংস্থায় আপনার বেতনের পরিমাণ – তাতে শেষমেশ অসুবিধায় পড়বেন আপনি নিজেই।

কেননা এক্ষেত্রে নতুন নিয়োগকর্তা আপনাকে কি পরিমাণ বেতন দেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে দরাদরি করবেন। এমন সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে আপনি হয়তো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি বেতন আশা করেছিলেন। কিন্তু ওঁরা দরাদরি করে ৫ হাজার টাকার বেশি বাড়াতে হয়তো নানা রকম গাইগুঁই করবেন।

আসলে আপনি মাস গেলে কত টাকা বেতন পাবেন, সেটি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য। যত্রতত্র আপনি যেমন মাইনে নিয়ে কথাবার্তা বলতে চান না, ইন্টারভিউ বোর্ডেও ও প্রসঙ্গে তেমন কথা না বলাই আপনার ব্যক্তিগত অধিকারের পর্যায়ে পড়ছে।

তবে ব্যাপারটা এড়ানোর জন্যে আপনাকে খানিক সাহস আর উপস্থিত বুদ্ধি খরচ করতে হতে পারে। আপনার কি বলা উচিত, কী বললে সাপও মরবে এবং লাঠিও ভাঙবে না, সেটা জেনে রাখলে আখেরে লাভই।

তার আগে জেনে নিন, কেন ইন্টারভিউ বোর্ডে পূর্বতন সংস্থার বেতনের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করা হয়ে থাকে। আসলে কথাবার্তা কিছুদূর এগোতে থাকলে নিয়োগকারী সংস্থা প্রার্থীদের কাছ থেকে আশামাফিক বেতনক্রমের চাহিদা জেনে নিয়ে তারপর প্রার্থী ছাঁটতে শুরু করেন। এটা বেশিরভাগ সংস্থার কৌশল। তা হলে আপনার কী করা উচিত?

লিজ রায়ান হলেন Human Workplace-এর সিইও। প্রসিদ্ধ ফোর্বস ম্যাগাজিনে লিজ এ ব্যাপারে প্রার্থীকে খানিকটা কূটনীতি করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রার্থী ‌সম্ভাব্য নিয়োগকারীকে জানাতে পারেন, আসলে আমি কত টাকা মাইনে পাই, কখনোই সে বিষয়ে গোপনীয়তা ভঙ্গ করব না। এ ব্যাপারে আমি কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় নৈতিক কারণে ও বিষয়ে খোলাখুলিভাবে কিছু জানাতে পারছি না। আদতে আপনি বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে পড়তে চান না।

এরপর যেটা হতে পারে – প্রথমত, আপনাকে বাতিল করা হতে পারে। যার অর্থ সংস্থাটি আপনার সম্পর্কে আর আগ্রহ দেখাবে না। ইন্টারভিউ ওখানেই খতম। অথবা, সংস্থাটির সঙ্গে এরপরেও যদি কথাবার্তা আরও এগোনোর জায়গা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে আপনিও দৌড়ে টিঁকে গেলেন।

এটুকু ঝুঁকি তো নিতেই হবে। না হলে পূর্বতন সংস্থা সম্পর্কে অনুযোগ করুন। অনুযোগ করুন পূর্বতন বেতন কাঠামো নিয়ে। বলুন, আপনি এ কারণেই নতুন চাকরিটা পেতে চাইছেন। অথচ, মোটেও এম ন করার দরকার নেই।

যদি অনলাইনে আপনাকে চাকরির দরখাস্ত পাঠাতে হয়, সেক্ষেত্রে যে জায়গায় আপনার বর্তমান বেতন উল্লেখ করতে বলা হয়েছে, মনে করলে সে জায়গাটা আপনি ফাঁকা রাখতে পারেন।

আসলে ইউরেকা বলে ওঠার মধ্যে যে বিস্ময়কর ব্যাপার-স্যাপারগুলি আছে, কেনই বা তা থেকে আপনি নিজেকে বঞ্চিত করে রাখবেন? সব কথা সবাইকে যেমন জানাতে নেই, তেমন কত টাকা বেতন পান, সেটাও চাকরি খুঁজতে বেরিয়ে নিয়োগকর্তাদের না জানালেও চলবে। এটা আপনার ব্যক্তিগত অধিকার।

তা হলে কী আপনার করা উচিত? হ্যাঁ, আপনি নতুন নিয়োগ কর্তার কাছে জানতে চাইতে পারেন –যে চাকরির জন্যে আমি আবেদন করেছি সেক্ষেত্রে সংস্থার বেতনক্রম কি রকম?

বলটা ঠেলে দি‌ন ওঁদেরই কোর্টে। স্যালারি স্লিপ জমা দিতে রাজি হওয়ার অর্থ কিন্তু দরাদরির সমস্ত সম্ভাবনাগুলি থেকে নিজেকে নিজে সরিয়ে ফেলা। যদিও অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে লাভবান হওয়ার জন্যে একজন কর্মী অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags