সংস্করণ
Bangla

বাঘ সংরক্ষণে সেরেব্রাল পালসি আক্রান্ত হংস

YS Bengali
2nd Dec 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
image


হংস দালাল, সেরেব্রাল পালসি নিয়ে জন্ম। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভূমিষ্ঠ হন হংস, সমস্যা জটিল হয় জন্মের পর জন্ডিস হওয়ার সময় রক্ত দিতে দেরি হওয়ায়। সুস্থভাবে কথা বলা এবং চলাফেরায় অক্ষম এই ছেলেটি ৬ বছর বয়স পর্যন্ত নিজে হাঁটতে পারতেন না।

সময়টাকে কয়েক দশক এগিয়ে দিন, আজ হংস বাঘ সংরক্ষণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য, জঙ্গল ফটোগ্রাফার, তথ্যচিত্র নির্মাতা এবং সঙ্গীতকার।

হংস প্রথমবার নিজের পায়ে হাঁটেন যখন তাঁর বয়স ৬। “ফিজিওথেরাপি খুবই যন্ত্রণাদায়ক ছিল। বাবা-মা আমার কোনো কাকুতি মিনতিতে কান দেননি, আর ডাক্তার তাঁর কাজ করে গেছেন। আমাকে বলা হয়েছিল আমি আমার মায়ের কাছে যেতে পারব না যদি না আমি নিজের পায়ে হাঁটার চেষ্টা করি”, বলছিলেন হংস। তিনি আরও বলেন, “আমি যদি হাঁটতে না চাইতাম, মা রেগে যেতেন, ভাগ্যিস রেগে যেতেন, না হলে আজ আমি একটা জড় পদার্থ হয়ে থাকতাম”। নিজের প্রাথমিক কাজগুলি করাই তাঁর পক্ষে ছিল কষ্টসাধ্য, তারই মধ্যে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিউট অফ টেকনোলজি থেকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন হংস।

বিশাল-শেখর ও জ্যাজ্ শিল্পী ত্রিলোক গুর্তুর সঙ্গে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বছর সাতেক কাজ করার পর ২০০৭ এ হংসের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। মধ্য প্রদেশের কাণ্হা জাতীয় উদ্যানে বাঘ দেখে মুগ্ধ হন। এরপরই জাতীয় উদ্যানে কমিউনিটি কনসার্ভেশন আধিকারিক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হংস। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির টাইগার ট্র্যাকিং প্রোগ্রামে সহায়তা করতে শুরু করেন। “আমি স্টুডিওর নিরাপদ গন্ডি ছেড়ে বন্য প্রকৃতিতে কাটানোর জীবন বেছে নিলাম, মা যদি জানতেন আমি কী করছি, মেরেই ফেলতেন আমায়। সরু সেতুর ওপর দিয়ে নদী পেরোতে পারি না, পাথরে লাফাতে পারি না, তাই আমি জলের মধ্যে দিয়েই হাঁটি। এরজন্য পুরো দলেরই গতি কমে যায়, একবার এক দলের প্রধান আমাকে এটা নিয়ে বলেওছিলেন, কিন্তু কোনোরকমে ব্যাপারটা আমি করে নিই”, হংস জানালেন।

রেডিফে প্রকাশিত প্রবন্ধ অনুযায়ী, হংস বাঘসংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। এবং ভারতের ২০ টিরও বেশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাঘ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর ফটোগ্রাফিতেও সমান উৎসাহী। হাত কাঁপলেও ছবির গুণগত মানের কোন ক্ষতি হয়না। রাজস্থানের মোঘিয়া গোষ্ঠীর মহিলা ও শিশুদের নিয়ে সঙ্গীত সহযোগে হৃদয়স্পর্শী তথ্যচিত্রও বানি ফেলেছেন এই আশ্চর্য যুবক।

(TCI, অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত)

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags