সংস্করণ
Bangla

সীমা পেয়েছেন অসীম সাফল্যের পরিশ্রমী হদিস

28th Oct 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

সমাজের কিছু গোঁড়ামির জন্য মেয়েরা সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ না পেয়ে পেয়ে পিছিয়েই আছে। সেই কবে থেকে। জেন্ডার ডিভাইড টেক ডিভাইড তৈরি করেছে।প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে পরেছিল মেয়েরা। আর এই সব গতানুগতিক গল্পের ব্রেক সীমালাল গুলাবরাণী। জানেন তো বাংলায় একটা প্রবাদ আছে "যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে।" আজ আমরা সীমার গল্প বলব যাঁর জীবন এই প্রবাদটিকে অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ করে দিয়েছে। প্রযুক্তিবিদ সীমা Sopra Group এর অ্যাসোসিয়েট জেনারেল ম্যানেজার। তিনি নিয়ত নিজেকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে বদলাতে ভালোবাসেন। ফেলে আসা সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে মেয়েরা দারুণ প্রোগ্রামার হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের বহু বাধা পেরিয়ে আজ সীমা সাফল্যের চূড়ায়।

image


সীমার গল্পের ফ্ল্যাশব্যাকটাই ক্লাইম্যাক্স

কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে মাস্টার্স করে পুনেতে ফুজিৎসু কোম্পানিতে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়র হিসেবে নিযুক্ত হন। তারপর দিল্লীর NIIT তে ঢোকেন। ৪ বছর পর কিছু সময়ের জন্য এই কাজের দুনিয়া থেকে বিরতি নেন। দিল্লীতে তিনি ছোটো ও মাঝারি ধরনের ব্যবসা করেন। এরপর বছর দুয়েক সীমা জাভা ও গূড়গাঁওতে স্যাপিয়েন্ট টেকনোলজিতে কাজ করেন। কেরিয়ার গ্রাফ দেখলে মাথা ঝিমঝিম করবে। পাশাপাশি তিনি একেবারে কেজো গিন্নি। ভালো মা। ঘরকন্যার কাজেও সমান লক্ষ্মী।

সীমা আমাদের বলছিলেন তাঁর ছেলেরা তখন খুব ছোটো যখন তাঁর স্বামী মারা যান। এই পরিস্থিতিতে তিনি খুব অসহায় আর বিধ্বস্ত হয়ে পরেন। বাবা ছাড়া সন্তানদের বড়ো করা আদৌ যায় কিনা তা নিয়ে রীতিমত পরিবারে গপশপ চলত। সীমার চাকরিটা ছিল একমাত্র সম্বল। সব দুঃখ ভুলে তিনি নিজের মন শক্ত করে জীবনের পরিবর্তন করেন। ঘর সামলান বাইরের জগত সামলান। সময়টা কঠিন ছিল। তবুও সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল তার অক্লান্ত পরিশ্রম করার ক্ষমতা। ২০০৩ সাল থেকে তিনি সোপরার সাথে আছেন। সীমা আজ একজন অভিজ্ঞ স্থপতি। তিনি বললেন," আমি প্রথম দিন থেকেই প্রযুক্তির হাত ধরে পথ চলেছি, অনেক টানাপোড়েন সহ্য করেছি। এখন আমি যেখানে আছি খুব খুশি।"

তিনি ইউরোপে ক্লায়েন্টের জন্য সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করেন। অনেকগুলো প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেন। প্রতিদিন ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে সাহায্য করেন। এককথায় বলতে গেলে একটি প্রোডাক্ট উৎপাদন হওয়া থেকে ক্রেতার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত সবটার প্রযুক্তিগত বিষয় টা দেখেন সীমা।

প্রযুক্তির মধ্যে যে গতিময়তা আছে তাইই ভালোবাসেন সীমা। তিনি চান নারী আরও বেশি বেশি করে প্রযুক্তিবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত হন। তবেই সমাজে দ্রুত পরিবর্তন ও আধুনিকতা আসবে। তার মতে বিভিন্ন সামাজিক বাধা ও গোঁড়ামি নারীর উন্নয়নের মূল বাধা। সীমা আগামী ১০ বছরের মধ্যে একটি কোম্পানির শিরোনামে আসতে চান। নারীদের ক্ষমতা আছে যেকোনো বাধা টপকে এগিয়ে যাওয়ার। তাই সীমাও প্রযুক্তির পালে ভর দিয়ে ডানা মেলেছেন অসীমে।

Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags