সংস্করণ
Bangla

রেল বাজেটে ভোটের গন্ধ, জোর উড়োজাহাজে

1st Feb 2018
Add to
Shares
9
Comments
Share This
Add to
Shares
9
Comments
Share
মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় ছিল অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রেল বাজেট পেশ করলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষকে আদৌ ছুঁতে পারলেন না। পশ্চিমবঙ্গের কিছুই প্রাপ্তি হল না। 
image


ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু তবুও সাধারণ মানুষের আশার গুড়ে বালি পড়েছে। আপাত নির্বিষ অথচ অত্যন্ত ম্যাড়ম্যাড়ে রেল বাজেট পেশ করলেন অরুণ জেটলি। কোনও নতুন ট্রেনের ঘোষণা ছিল না। গত বারের রেল বাজেটের প্রায় কপি পেস্ট বাজেট পেশ করলেন জেটলি। সাড়ে সতের হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ করেছেন। কেন্দ্রীয় বাজেটে রেলের খাতে মোট এক লক্ষ সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা হল। মোট বরাদ্দ অর্থের অধিকাংশই খরচ হবে রেলের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে। দেশের মোট ১৮ হাজার কিলোমিটার রেল লাইন ডবল করা হবে। এবং ৪ হাজার কিলোমিটার লাইনের বৈদ্যুতিকরণ করা হবে। ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর’ তৈরিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ৩৬ হাজার কিলোমিটার রেল লাইনের মেরামতি হবে। নিয়মিত পঁচিশ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন, এমন সব স্টেশনেই চলমান সিঁড়ি বসবে। সব ট্রেন এবং স্টেশনে ওয়াইফই আর সিসিটিভি লাগানো হবে। দেশের ছ’শোটি স্টেশন আধুনিক হবে। সিগনালিং ব্যবস্থাকে উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া হবে, কুয়াশায় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত যাতে না হয় সে দিকে নজর দেবে রেল। যাত্রী নিরাপত্তার ওপরে জোর দেওয়ার কথা বলা হলেও সেই ঘোষণার নিরিখে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি। কীভাবে সেটা হবে তার উল্লেখও এ বারের বাজেটে নেই। চলতি আর্থিক বছরে মোট ব্যয়বরাদ্দ ধরা ছিল ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৮ আর্থিক বছরে সেই বরাদ্দই সাড়ে সতের হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হল। ফলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে যথা পূর্বং তথা পরং পরিস্থিতিই থাকবে। রেল বাজেটে কোনও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রেলের ঘরে বেশি টাকা ঢোকার রাস্তাও তৈরি করা হয়নি। কিন্তু মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রেল বাজেট। রাজনৈতিক বাধ্য বাধকতাই বিজেপির রেল বাজেটকে চালিত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুম্বাই এবং বেঙ্গালুরুতে লোকাল ট্রেন ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কথা বলেছেন অরুণ জেটলি। বেঙ্গালুরু মেট্রোর জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের পরিবহণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে। ফলে একা মুম্বাইয়ের কপালে একান্ন হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ জুটেছে। স্পষ্ট করে বুলেট ট্রেন নিয়েও কোনও উচ্চবাচ্য হয়নি। শুধু বলা হয়েছে মুম্বাই থেকে আমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বরদায়। ৪ হাজার ২৬৭টি অসংরক্ষিত লেভেল ক্রসিং গেট আগামী দু’বছরে সংরক্ষিত করার কথা শুনিয়েছেন জেটলি সাহেব। ১২ হাজার নতুন মালগাড়ি, ৫ হাজার ৬০০টি নতুন যাত্রী কামরা এবং ৫০০টি নতুন ইঞ্জিন এই অর্থ বছরে রেল ব্যবস্থায় যুক্ত করার কথা বলেছেন।

আর শোনালেন আকাশ পথের কথা। রেল সংক্রান্ত নয়। উড়োজাহাজ সংক্রান্ত। দেশে যে পরিমাণ বিমান বন্দর আছে তার অন্তত পাঁচগুণ বিমান বন্দর তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। যাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ বিমান যাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে। দেশে অসামরিক বিমান বন্দরের সংখ্যা বাড়লে এবং বেশি সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করতে থাকলে বিমান ভাড়া কমবে। ফলে রেলের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে মধ্যবিত্ত মানুষের।
Add to
Shares
9
Comments
Share This
Add to
Shares
9
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags