সংস্করণ
Bangla

স্বেচ্ছাশ্রমের গুগল হয়ে উঠতে চায় Let’s Volunteer

sananda dasgupta
4th Oct 2015
Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share
image


“স্বেচ্ছাশ্রমে ভারতের গুগল হয়ে উঠতে চাই আমরা, রেস্তোরাঁ খোঁজার জন্য জোম্যাটো, ট্যাক্সির জন্য উবের বা চাকরি খোঁজার জন্য রয়েছে নকরি.কম, তেমনই স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার সুযোগ খুঁজে পেতে Let’s Volunteer,” বললেন দীপক।

স্বেচ্ছাশ্রমের প্ল্যাটফর্ম Let’s Volunteer’ তৈরি করেছেন বছর ২৭ এর হরিশ শ্রীগুরুরাজু ও দীপক তেজা পরিপতি। দীপক একটি বহুজাতিক সংস্থায় বিজনেস অ্যানালিস্টের কাজ করেন, হরিশ কাজ করেন দাসরাতে।

একটি সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও তার সমাধান

বিজনেস স্কুলে পড়ার সময় একদিন অনেক রাতে একটি ইভেন্টে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করে ফিরছিলেন দীপক। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া সমস্যা হয়। অন্যদিকে অনেক ছেলেমেয়েই স্বেচ্ছাশ্রম দিতে ইচ্ছুক কিন্তু এমন কোনও প্ল্যাটফর্ম নেই যেখানে তারা সেই সংক্রান্ত তথ্য পাবে। নিজের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবক ও সংস্থাগুলির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করার কথা ভাবছিলেন দীপক।

হরিশ শিক্ষা, চাকরির কর্মশালা, জৈব চাষ ইত্যাদি নানা বিষয় স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন, আর এই অভিজ্ঞতাগুলিই তাঁকে উন্নয়ন ক্ষেত্রে কাজ করতে উত্সাহিত করে। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কারের চাকরি ছেড়ে উন্নয়ন ক্ষেত্রে কাজ করারই সিদ্ধান্ত নেন হরিশ। Let’s Volunteer’ তৈরির ইচ্ছেটাও সেখান থেকেই।

হরিশ বললেন, “শহরে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হতে চান। আমরা গবেষণা করে দেখেছি, বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন নির্দিষ্ট ক্ষেত্র যেমন শিক্ষা বা স্বাস্থ্য ইত্যাদির কাজে যুক্ত হতে চান। এইগুলি মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে Let’s Volunteer’ যাতে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী সুযোগ. এই ধরণের ইভেন্ট যুক্ত হওয়ার একটি বড় পাওনা হল সমমনস্ক মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ”।

পরীক্ষা করার জন্য ২০১৪ সালে একটি ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করেন হরিশরা, সাড়া মেলে আশাতীত। “মুম্বইতে আয়োজিত পাঁচটি ইভেন্টে অংশ নেন ১০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক, প্রায় ৩০০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রম দেন তাঁরা” বললেন দীপক। ২০১৫ এর ফেব্রুয়ারিতে লঞ্চ করেন প্রথম ওয়েবসাইট, আবারও একইরকম সাড়া পান। “ওয়েবসাইট লঞ্চের পর ১০০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিজেদের ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে নাম নথিভুক্ত করেন। রেজিস্টার করে ২০ টির বেশি সংস্থা যারা মুম্বই ও বেঙ্গালুরুতে ১৩ টি ইভেন্ট আয়োজন করে। বললেন দীপক”।

স্বেচ্ছাসেবক ও সংস্থাদের একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা

Let’s Volunteer সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি নির্ভর। কাজ করে একটি ছোট টিমে। প্ল্যাটফর্মটি চালাতে প্রয়োজন মাত্র একজন।

যেকোনোও সংস্থা ইমেল আইডি দিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নাম নথিভুক্ত করতে পারে। সংস্থা সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে অনলাইন প্রোফাইল পূরণ করে তা জমা দিতে হয়। কর্তৃপক্ষ সেই তথ্যের সত্যতা পরীক্ষা করে ও সংস্থাটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে তা অনুমোদন করে। অনুমোদনের পরই সংস্থার পাতাটি চালু হয়, তখন সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্যোগ, অনুষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পোস্ট করা হয়। প্রতিদিন কোন উদ্যোগের জন্য কত সংখ্যক স্বেচ্ছা সেবক নাম নথিভুক্ত করল সেই বিবরণ সহ ইমেল পাঠানো হয় সংস্থাগুলিকে।

স্বেচ্ছাশ্রমে ইচ্ছুকরা তাঁদের আগ্রহ ও ইচ্ছা অনুযায়ী ইভেন্টে অংশগ্রহণ করার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবীরা স্থান, তারিখ ও বিষয় অনুযায়ী উদ্যোগ খুঁজে পেতে পারেন। অন্য কারা সেই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন তাও দেখতে পারেন তাঁরা।


Let’s Volunteer এর ব্যান্ড পরে স্বেচ্ছাসেবকরা

Let’s Volunteer এর ব্যান্ড পরে স্বেচ্ছাসেবকরা


অনুষ্ঠান বা ইভেন্টের দিন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীদের দেখা হয়, ইভেন্টটি আয়োজিত হয় ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি ওয়েবসাইটে নথিভুক্ত করা হয়।

অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের নম্বর দেওয়া হয়, তবে তা প্রকাশ্যে নয়, সংস্থার দেওয়া নম্বর (পাঁচের মধ্যে), স্বেচ্ছাশ্রমে দেওয়া নম্বর ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে এই নম্বর দেওয়া হয়।


স্বেচ্ছাসেবক একটি ইভেন্টে

স্বেচ্ছাসেবক একটি ইভেন্টে


কিন্তু এই নম্বর তাঁদের কী কাজে লাগবে? বিভিন্ন শুরুয়াতি কোম্পানি ও সংস্থার সঙ্গে কথা বলছেন দীপক ও হরিশ যাতে ছাড়ের কুপনের ব্যবস্থা করা যায় ওই নম্বরের ভিত্তিতে। যেমন বেঙ্গালুরুর একটি স্যালোঁ এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে Let’s Volunteer, যাতে স্বেচ্ছাসেবকরা ৫০ শতাংশ অবধি ছাড় পায়।

লাভের মডেল

আগামী ৬-৮ মাস কোনও লাভের কথা ভাবছে না Let’s volunteer। কিন্তু আগামী দিনে লাভের পরিকল্পনা রয়েছে।

• সংস্থাদের থেকে গ্রাহক-মূল্য সংগ্রহ। গ্রাহক পদের সময় ও ইভেন্টের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে থাকবে বিভিন্ন প্ল্যান।

• স্বেচ্ছাসেবকদের নম্বরের বিনিময় ছাড়ের জন্য যে কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি হবে তাদের থেকে লভ্যাংশ নেওয়া। “যেমন, ধরুন একটি নির্দিষ্ট দিনে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের ক্রয় থেকে দশ হাজার টাকা লাভ করল কোম্পানিটি, সেখানে লাভের ৫ শতাংশ আমরা নেব, এক্ষেত্রে যা ৫০০ টাকা,” বললেন দীপক।

বর্তমানে কোম্পানির চ্যালেঞ্জ নথিভুক্ত সংস্থা ও স্বেচ্ছা সেবকের সংখ্যা বৃদ্ধি. হরিশ ও দীপকের মতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলির থেকে তারা আলাদা, কারণ Let’s volunteer ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করেনা। স্বেচ্ছাশ্রম সংক্রান্ত ধারণায় পরিবর্তন আনার লক্ষে কাজ করছেন তাঁরা। হরিশ বললেন, “স্বেচ্ছা শ্রম শুধু এনজিও বা সামাজিক কাজের জন্য নয়, স্বেচ্ছাশ্রমের আসল অর্থ ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিনোদন, ব্যবসা, নারী স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ইত্যাদি নানা বিষয়ই স্বেচ্ছাশ্রমের সুযোগ করে দিতে চাই আমরা”।

আগামী দিনে Let’s volunteer মোবাইল অ্যাপ লঞ্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবধরণের স্বেচ্ছাশ্রমের সুযোগকে একটি ছাতা তলায় এনে শহুরে যুব সমাজকে স্বেচ্ছা শ্রমে উত্সাহিত করাই লক্ষ্য হরিশদের।

Add to
Shares
2
Comments
Share This
Add to
Shares
2
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags