সংস্করণ
Bangla

সম্ভাবনাময় শিল্পীদের ই-মঞ্চ ইয়াহাবি

sananda dasgupta
18th Sep 2015
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
image


দক্ষতা, যোগ্যতা, সৃজনশীলতা আর প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শুধু সঠিক যোগাযোগের অভাবে অনেক শিল্পীই অন্ধকারে থেকে যান। আবার উল্টোটাও ঘটে। তুলনায় কম যোগ্যের ওপর খ্যাতির আলো এসে পড়ে। শিল্প সংস্কৃতির জগতে এই নিয়ে নানা অভিযোগ অভিমানের অবকাশ থেকে যায়। এই সমস্যার সমাধান করতেই শুরু হয় ইয়াহাবির সফর।

শিল্পীদের প্রতিভা দেখানোর একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরিও করে দিতে চেয়েছিল এই সংস্থা। উদীয়মান শিল্পীদের জন্য এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি তৈরি হয় ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তে। যোগ্য শিল্পীকে পরিচিতি আর উপযুক্ত কাজের সুযোগ করে দেয় এই সংস্থা। yahavi.com-এর মাধ্যমে একজন শিল্পী সহজেই পৌঁছে যেতে পারেন দর্শক, ভক্ত, গুণগ্রাহী আর জরুরি যোগাযোগের কাছে। এবং সেটাও কোনও রেজিস্ট্রেশন ফি ছাড়া। 

ক্লাব, রেস্তোরাঁ বা কর্পোরেট হাউজ যে কোনও অনুষ্ঠানের জন্য শিল্পীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে এই সাইটের মারফত। প্রথম কয়েকমাসেই নথিভুক্ত শিল্পীর সংখ্যা ২০০০ ছুঁয়েছে, এরমধ্যে রয়েছেন দিল্লি এবং বৃহত্তর দিল্লির এক গুচ্ছ সঙ্গীতশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী আর মিউজিক ব্যান্ডের দল।

“চাহিদা রয়েছে, রয়েছেন দক্ষ ও প্রতিভাবান শিল্পীরাও। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একদল মধ্যস্বত্ত্বভোগী এর মধ্যে ঢুকে পড়ে সব তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে। এরা গোটা প্রক্রিয়াটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। একটা ধূষর আবছায়ার জগত তৈরি করে তাতে রাজত্ব করার চেষ্টা করে। আর সেই রাজ্যে শিল্পীরা দাসত্ব করেন। ইয়াহাবি এই আবছায়াটাই কাটাতে চেয়েছে। শিল্পীদের সঙ্গে গুণগ্রাহীর সরাসরি যোগাযোগ তৈরির কাজটাই করতে চেয়েছে ইয়াহাবি। বললেন yahavi.com এর সিইও দিব্যেশ শর্মা।

ঝাপসা ধারণা ও পরিষ্কার লক্ষ্য

সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই শুরু ইয়াহাবি ডট কমের। তবে সবসময়েই ব্যবসায়িকভাবে টিকে থাকার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছিল।প্রাথমিকভাবে দশ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়। লক্ষ্য, শিল্পীদের দক্ষতা প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া।

কাজটি করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ছিল দর্শকদের পুরো পদ্ধতিটি বোঝানো যে কীভাবে শিল্পীদের খুঁজে পাওয়া, যোগাযোগ করা ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন শহরের পাব ও রেস্তোরাঁগুলো লাইভ অনুষ্ঠানের একটি বড় মঞ্চ হয়ে উঠছে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক শিল্পী এটিকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। কিউকি, গিগস্টার্ট ইত্যাদি কোম্পানি আসার ফলে শেষ দু’বছরে বাজার বদলেছে। বছরে লাভ হয়েছে প্রায় ১০০০ কোটির।

ইয়াহাবি এই বাজারে একটি নতুন সংযোজন। শিল্পীদের কেরিয়ার শুরু করার ক্ষেত্রে মূল সমস্যাগুলি সমাধান করা এবং তাঁদের প্রতিভা প্রদর্শন ও দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া, এই দুটো কাজের মাধ্যমেই অন্যদের থেকে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছে yahavi.com।

শিল্পীদের কাছে পৌঁছনোর জন্য ফেসবুকের মত সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিয়েছিলেন দিভ্যেশ। শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট শর্ত অনুসরণ করেনা yahavi.com এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিল্পীদের থেকে কোনও টাকাও নেওয়া হয় না।

একমাসে দক্ষিণ দিল্লীতে চারটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে yahavi.com জ্যাজ, হেভিমেটাল আরও নানা ধরণের সঙ্গীতের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

“বর্তমানে, শিল্পী, ক্লাব বা রেস্তোরাঁ থেকে কোনও রকম পয়সা আমরা নিচ্ছিনা. আগামীদিনে সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে,” জানালেন দিব্যেশ শর্মা।

অন্যান্য শহরেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে দিব্যেশের। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, পুনে, কলকাতা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ থেকে শিল্পী সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে ছে।

বর্তমানে কর্মী সংখ্যা ৪০। কোর টিম ব্যবসা, মার্কেটিং, অপারেশন ও পণ্য দেখাশোনা করে, আর সাহায্যকারী টিমে রয়েছে প্রতি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ।

আগামী পরিকল্পনা

আগামী একবছরে চাহিদা এবং যোগান দুতরফেই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিজেদের প্ল্যাটফর্মকে জনপ্রিয় করতে চায় ইয়াহাবি.কম। প্রযুক্তি ও ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্বদানকারী টিমের সাহায্যে আগামীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ইয়াহাবি.কম। দিভ্যেশ জানালেন, “ভারতের গান, নাচ ও স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শিল্পীদের পর ২০১৬ তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলিতে কাজ শুরু করবে ইয়াহাবি.কম”।


Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags