সংস্করণ
Bangla

ছোট শহরে ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলতে চায় Kaidi Kitchen

YS Bengali
25th May 2017
Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share

অনেক জায়গায় অনেক তো খেলেন ... এবার চলুন জেলের খাবারের স্বাদ নেবেন! কী! শুনে খারাপ লাগল! সত্যিই তো এরকম কথা বলা মানেই সহবতের সীমা অতিক্রম করা। দুঃস্বপ্নেও এমন বেয়াড়া শখ হয় নাকি কারও? কিন্তু কয়েদি কিচেন নামের রেস্তোরাঁয় আলবৎ যাবেন কারণ এখানেই পাবেন অথেনটিক ম্যাক্সিকান, ইটালিয়ান, সাউথ ইন্ডিয়ান, মঙ্গোলিয়ান ফুড। এই রেস্তোরাঁর থিমটাই এমন। জেলখানা। রেস্তোরাঁয় ঢোকা থেকে শুরু করে ডাইনিং হল, খাবার পরিবেশন সবকিছুর সঙ্গে যে কোনও সেন্ট্রাল জেলের মিল খুঁজে পাবেন। ঢোকার মুখেই জেলখানার গেট। অ্যাম্বিয়েন্সটুকু বাদ দিলে ভেতরটা রীতিমতো গারদের আদলে তৈরি। কয়েদির পোশাকে ওয়েটাররা খাবারে অর্ডার নিতে আসেন। মোটা লোহার বারের দরজা দেওয়া গারদ, মজাদার তার কয়েদিরা, ঝিম ধরা পরিবেশ। কাল্পনিক স্বপ্নালু জগত তৈরি করেছেন রোহিত ওঝা। রোহিত কয়েদি কিচেনের কো-ফাউন্ডার। কলকাতার ছেলে। পড়াশুনোর সুবাদে লন্ডনেও ছিলেন দীর্ঘদিন। রোহিতরা তিন বন্ধু অঙ্কিত মাধোগরিয়া এবং সৌরভ আগরওয়াল মনে করেন ফাইন-ডাইনিং আসলে একটা শিল্প। খাঁটি নিরামিষ খাবারের সন্ধান গোটা শহর ঘুরে পাওয়া কঠিন। সেখান থেকে কয়েদি কিচেনের ভাবনা শুরু। শুরু ২০১২ সালে। রমরম করে চলছে। ২০১৪ তে আউটলেট খুলেছেন চেন্নাইয়ে। ক্যামাক স্ট্রিটের পর কলকাতাতেই মানি স্কোয়ারে দ্বিতীয়টি। নিজে মুখে রোহিত বললেন, তাদের কয়েদি গড়ার গল্প।

image


মার্কেট রিসার্চের পর ঠিক হয় মেক্সিকান, ইটালিয়ান, নর্থ ইন্ডিয়ান এবং মঙ্গোলিয়ান ফুডের মাল্টি কুইজিন রেস্তোরাঁ খুলবেন তাঁরা। তিন উদ্যোক্তার দেড় থেকে দু কোটি টাকার লগ্নি নিয়ে কয়েদি শুরু হয়। সে ছিল ২০১২। ডিসেম্বর। শুরুতে থিম টিম মাথায় ছিল না। জায়গাটা হাতে পাওয়ার পর কয়েদি থিমের কথা ভাবা হয়। অপরাধ করলে তার শাস্তি আছে এই কথাটা প্রচার করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সেটা ভাবনার বীজ। তারপর যেমন ভাবা তেমন কাজ করতে গিয়ে দেখলেন মানুষের উৎসাহের অন্ত নেই। রেস্তোরাঁয় যারা খেতে আসেন তাঁরা কী চান, সেদিকটা ভেবে খাবার তৈরি করেন কয়েদির শেফরা। জেলখানার মতো বদ্ধ জায়গায় আসলে মনের ইচ্ছে গুলিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। খাবারের অর্ডার নিতে আসেন উর্দিধারী জেল কর্মীর পোশাক পরা ওয়েটার। কয়েদির পোশাক পরে খাবার সার্ভ হয়। এসব দেখতেই রোজ ভিড় জমে। শুধু খাওয়া দাওয়া নয়, কয়েদি যেন একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে, সেটাই চান তিন তরুণ উদ্যোক্তা। বলছিলেন, লঞ্চের আগে বারবার ট্রায়াল দিয়েছেন ওরা। কাস্টমারকে ওরা দুধরনের অপশন দেন। হয় জেলে বসে খাও নয় জেলের বাইরে বসে ভেতরে কীভাবে খাবার তৈরি হয় তা দেখো, বলছিলেন ওঝা। রেস্তোরাঁটি এমনভাবে তৈরি যে, কেউ এখানে খেতে এসে বোর হবেন না। এর ফলে ভেতরের ডিজাইনিং এবং ডেকরেশন এতটাই পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে যাতে জেলের লুক দিতে গিয়ে অপরিচ্ছন্ন বা খারাপ দেখতে কিছু না লাগে। বিশেষ ইট ব্যবহার করা হয়েছে জেলখানা জেলখানা ভাব তৈরি করতে।

চেন্নাইতে ভালো ব্যবসা করছে কয়েদি। যারা খেতে আসছেন ৭০ শতাংশই স্থানীয় তামিল। যদিও ওঝাদের টার্গেট গ্রুপ জৈন আর মাড়ওয়ারি গোষ্ঠীর জনতা। এসব ভেবে চিন্তে জয়পুর, সুরাট, রায়পুরের মতো টু টিয়ার সিটিগুলিতেও ফ্রেঞ্চাইজি দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করছেন। সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে। ওদের দরকার ৩,৫০০-৪,৫০০ স্কোয়ার ফুটের মতো জায়গা। যেখানে দারুনভাবে কয়েদি চালানো যাবে, বলছিলেন ওঝা। মেট্রো সিটির চাইতে টু টিয়ারসিটিগুলিই এখন লক্ষ্য তিন বন্ধুর। ব্যবসা বাড়িয়ে যেতে চান এইভাবেই।

Add to
Shares
8
Comments
Share This
Add to
Shares
8
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags