সংস্করণ
Bangla

ঐতিহ্য আর বিজ্ঞান দুইয়ে মিলে দুর্দান্ত নাগাল্যান্ড

26th Dec 2016
Add to
Shares
33
Comments
Share This
Add to
Shares
33
Comments
Share

ধরা যাক, আচমকা কোনও আঘাতের জেরে শুরু হল রক্তরক্ষণ। এক্ষেত্রে সাধারণত আমরা ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই। কিন্তু নাগাল্যান্ডের প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামগুলির বাসিন্দারা রক্ত পড়া বন্ধ করতে স্থানীয় গাছের পাতা ছিঁড়ে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দেন। তাতে কাজ হয় ম্যাজিকের মতো। স্থানীয় ভাষায় এই গাছটির নাম সায়নগ্লাজা। যার বৈজ্ঞানিক নাম, Eupatorium Odoratum।

image


ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে নাগাল্যান্ডে বসবাসকারী গ্রামীণ এলাকার মানুষ নিজেদের নিত্যদিনের অনেক প্রয়োজন এভাবে মিটিয়ে আসছেন অতীতকাল থেকেই। সেইসঙ্গে তাঁরা গড়ে তুলছেন আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিও। কেননা, এইসব প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মানুষজন বেঁচে থাকার জন্যে কঠিন সংগ্রাম করেন। নিজেদের বহু সমস্যার মোকাবিলায় স্থানীয় প্রাকৃতিক উৎসগুলিকেই কাজে লাগান তাঁরা। এক্ষেত্রে যাতে অপচয়ও না হয়, সেদিকে তাঁদের সতর্কভাবে লক্ষ্য রাখতে হয়।

এ সম্পর্কে সচেতনতা জাগাতে নাগাল্যান্ডে সম্প্রতি আয়োজিত হল ৩৮ তম Shodhyatra। এককথায় বিষয়টি হল শিকড়ে্র কাছাকাছি জীবন থেকে কিছু উদ্ভাবন – যা প্রাত্যহিক জীবনের নানান জরুরি সমস্যার সমাধানে কাজে লাগতে পারে।

নাগাল্যান্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশবিদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানালেন সোসাইটি ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনিসিয়েটিভস ফর সা্সটেইনএবেল টেকনোলজিস অ্যান্ড ইন্সটিটিউশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক অনিল কুমার গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠনের তরফে বছরে দুবার এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আয়োজিত হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষ ঐতিহ্য থেকে উঠে আসা জ্ঞানচর্চা করে কীভাবে জীবনধারণের প্রয়োজনগুলি মেটান, তা দে্খানোই উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

image


নাগাল্যান্ডে সম্প্রতি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের ভিতর কয়েকজনের বয়স ছিল ৯০। ১১২ বছর বয়স্ক অংশগ্রহণকারীও ছিলেন। তাঁদেরকে সম্মানীত করা হল। ১১২ বছর বয়স্ক অংশগ্রহণকারী নিটসাংপা বললেন, প্রথমবার এলাম। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করি।

প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষ কীভাবে উদ্ভাবনী শক্তির জোরে নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন, এরও কতিপয় এখানে নিদর্শন দেখা গেল। যেমন, তামিলনাড়ুর গ্রামবাসী এন শক্তিমেইনথান প্রদর্শিত করলেন জল তোলার হস্তচালিত একটি পাম্প। হরিয়ানার গ্রামবাসী ধরমবীর কাম্বোজ প্রদর্শিত করলেন স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের একটি যন্ত্র।

শিকড়ের বাসিন্দা এই গ্রামবাসীদের ভিতর কেউ কেউ পেয়েছেন সরকারি স্বীকৃতিও। অমরুট আগরওয়াল নামে ৭১ বছরের এক কৃষক সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে সংবর্ধিত হয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবনী প্রতিভা পেয়েছে দেশের রাষ্ট্রপতির স্বীকৃতি। সংগঠকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী পর্যায়ে Shodhyatra আয়োজিত হবে ওড়িশায়।

Add to
Shares
33
Comments
Share This
Add to
Shares
33
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags