সংস্করণ
Bangla

টিম গেমেই এগিয়ে গেলেন ঐশ্বরিয়া এবং শ্রেয়া

10th Jan 2018
Add to
Shares
99
Comments
Share This
Add to
Shares
99
Comments
Share

ছোটবেলার বন্ধুত্ব বড় হতে হতে আরও গাঢ় হয়েছে। অসাধারণ বোঝাপড়া। আর সেটাই ইউএসপি বাংলার দুই রোয়ার কন্যার। ঐশ্বরিয়া কৃষ্ণ ও শ্রেয়া আইয়ার নিজেদের মধ্যে সেই বোঝাপড়াকেই পুঁজি করে পুনে সিনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে নৌকা বাইচে সোনা ছিনিয়ে এনেছে বাংলার জন্য। গত বছর ওড়িশার কাছে হেরে রুপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এবার সেই ওড়িশা এবং চণ্ডীগড়কে ৫০০ মিটার ডাবল স্কালে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিলেন শ্রেয়ারা। সময় নিয়েছেন মাত্র ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড। ২০১৫ থেকে জুটি বেঁধে একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, মেডেল জিতেছেন বাংলার এই দুই কন্যা।

image


এগারো বছর বয়সে ঐশ্বরিয়ার নৌকা বাইচে হাতেখড়ি বাবার কাছেই। বাবা আর শ্রী কৃষ্ণণ নিজেও রোয়ার। লেক ক্লাবে বাবার সঙ্গে যেতেন নৌকা বাইচ দেখতে। একদিন তাঁকেও প্র্যাকটিসে নামিয়ে দেন বাবা। পর দিন থেকে আর বলতে হয়নি। প্রথম দিন থেকেই ভালোবাসা জন্মে যায়। বলছিলেন বছর উনিশের ঐশ্বরিয়া। প্রিয় বান্ধবী শ্রেয়া বয়সে এক বছরের বড়। দুজনের বন্ধুত্ব সেই ছোটবেলা থেকে। ঐশ্বরিয়াকে দেখে শ্রেয়াও রোয়িংয়ে আগ্রহী হন। উইনিং পার্টনারশিপের বীজ বোনা হয়ে যায়। ওড়িশা টিমে এশিয়ান মেডেলিস্ট রয়েছে। তাদের হারিয়ে সোনা জয়ের আনন্দ ছিল অন্যরকম, বলছিলেন সদ্য সিনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০০ মিটারের রেস জিতে আসা সেন্ট জেভিয়ার্সের কমার্সের ছাত্রী ঐশ্বরিয়া।

প্রথম কয়েক বছর কক্সড ফোর অর্থাৎ এক বোটে চার রোয়ারের ছকে খেলছিলেন ঐশ্বরিয়া এবং শ্রেয়া। দুই বন্ধুর বন্ডিং নজরে আসতেই তাঁদের কোচ সৈয়দ মহম্মদ কামরুদ্দিন পরামর্শ দেন জুটি বেঁধে খেলার। কামরুদ্দিন বলছিলেন দুজনের মানসিক গড়ন এক। মানসিকতা এক। জুটি বাঁধার পরামর্শটা তাই কাজে লেগে গেল। গর্ব তো বটেই সেই সঙ্গে তৃপ্তির হাসি কোচের মুখে। রোয়িংয়ের পাশাপাশি ভারতনাট্যম শেখেন ঐশ্বরিয়া। আর শ্রেয়া বাজান বেহালা।

সাফল্যের কেমিস্ট্রিটা এই অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছেন দুজনে। সেটা হল নিজের জয়পরাজয় নয় টিমের জন্যে উজাড় করে দেওয়ার মন্ত্রগুপ্তি।

এবার ওদের লক্ষ্য ২০০০ মিটারের রেস। প্র্যাকটিস বা অভিজ্ঞতা যাই হোক না কেন ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে এই ইভেন্টে কোথাও একটা খামতি ছিল বাংলার জুটির। চার নম্বরে রেস শেষ করে তাই খানিকটা মন খারাপ ছিল। যদিও ৫০০ মিটারের রেসে সোনা জয় সেই ক্ষতে অনেকটাই মলম লাগিয়েছে। ২০০০ মিটারের রেসে ব্যর্থতার স্মৃতি ঝেড়ে ফেলে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ শুরু করে দিয়েছেন দুই বন্ধু। যদিও ওই রেসের জন্য অনুশীলনের সঠিক পরিকাঠামো নেই বাংলায়। ইতিমধ্যে বাইরে গিয়ে প্র্যাকটিসের কথা ভাবছেন দুজনে। বাংলায় রোয়িংকে সেভাবে গুরুত্বই দেওয়া হয় না বলে, ওদের গলায় আক্ষেপের সুরও ধরা পড়ল। পাশাপাশি আশার কথাও শোনালেন ওই দুই কন্যে। বললেন সঠিক পরিকাঠামো থাকলে রোয়িংয়ে বাংলা থেকেই অনেক তারকা উঠে আসবে। কারণ প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে দেখেছেন ভালো প্রশিক্ষক যেমন এখানে আছে তেমনি প্রতিযোগীদের মধ্যে জেতার মানসিকতা আর রোয়িংয়ের প্রতিভা বাংলায় প্রচুর আছে। শুধু পরিকাঠামোর সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে বাংলার ক্রীড়া মানচিত্র।

Add to
Shares
99
Comments
Share This
Add to
Shares
99
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags