সংস্করণ
Bangla

এলগিনের 'কাঠ কয়লা' জেন ওয়াইয়ের ডেস্টিনেশন

YS Bengali
22nd Apr 2017
Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share

ব্যবসাটা রক্তে ছিলই। তাই পারিবারিক শক্ত ভিতের পুরনো ব্যাপারী ছেড়ে নতুন ব্যবসায় ঝাঁপাতে কখনই সাহসে কম পড়েনি সুমিত কারিওয়ালার। শাড়ি-পোশাকের একঘেয়ে ব্যবসা ছেড়ে সোজা খুলে ফেলেন হুঁকা ক্যাফে। বাড়ির আর্থিক সাহায্য সবসময় ছিল। কিন্তু বিজনেস প্ল্যানিং থেকে ক্যাফে সাজানো সব একা হাতে সামলেছেন ২৪ বছরের তরুণ উদ্যোগপতি।

image


কাঠ কয়লা। সুমিত নিজেই এই নাম বেছেছেন তাঁর হুঁকা ক্যাফের জন্য। নিরামিষ খানার সঙ্গে হুঁকা। আলাদা করে বিশেষত্ব খোঁজার কোনও কারণ নেই কাঠ কয়লায়। ১৮-৪০ বছর বয়সী যে কেউ আসতে পারেন এখানে। ‘অন্যদের থেকে আলাদা একটা জায়গাতেই। আমি নজর দিয়েছি যে দিকটা সেটা হল মানুষ যাতে আমার ক্যাফেতে এসে নিজেকে রিফ্রেস করে নিতে পারেন। খাবার এবং তার পরিবেশনে দেখনদারি নয়, স্বাদ, গুণ ও মান যাতে সমানভাবে সবাইকে আকৃষ্ট করতে পারে সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্ব পায়’, ভিড়ের মাঝে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়ে দেন তরুণ উদ্যোক্তা। কিন্তু এমন অদ্ভুত নাম কেন? হুঁকা জ্বালাতে তো কয়লাই দরকার, তাই কাঠ কয়লা, হাসেন সুমিত।

১০০০ বর্গফুট জুড়ে ৫০ আসনের এই ক্যাফের ঠিকানা ৬ বি এলগিন রোড। পিজেরিয়া সুমো ডাফের ওপর তলায়। পিজেরিয়া সুমিতেরই আরেকটি রেস্তোরাঁ। ঢিল ছোড়া দূরত্বে ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটি কলেজ। ‘ঠিক এক বছর আগে একটা জায়গা খুঁজে পেতে উঠে পড়ে লাগি, যেখানে নিশ্চিন্তে পেটপুরে খাওয়া যাবে এবং যেটা হবে একটা কলেজের কাছাকাছি’, বলেন সুমিত।

কয়েক দশক এবং কয়েক পুরুষ ধরে কারিওয়ালাদের গার্মেন্টসের ব্যবসা। দু বছর আগেও সুমিত সেই পারিবারিক ব্যবসাতেই হাত পাকাচ্ছিলেন। অবসরে বন্ধুদের নিয়ে ঢুকে পরতেন হুঁকা ক্যাফেতে। স্ন্যাকস আর হুঁকোয় দারুণ সময় কাটতো। সেখান থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন একদিন নিজেই খুলবেন হুঁকা ক্যাফে। একরকম একা হাতেই স্বপ্ন পূরণের কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সুমিত। দস্তারঙা ক্যাফে সাজিয়েছেন নিজের পছন্দমতো। নরম সোফা, কাচের টপ লাগানো কাঠের টেবিল আর মোরদাবাদের আলো ক্যাফের ভেতরটা কেমন যেন ঘোর লাগানো।

খাবারের মেনুর একটা ধারনা আপনাদের দিয়ে দিই। পনীর মাখানি পিৎজা, ভেজিটেরিয়ান চেলো কাবাব, অন্য পাও আর ওরিও শেক। কী? জিভে জল আসছে তো ? দক্ষিণা কোনওটির তিনশোর বেশি নয়। তবে এই কটা পদ শুধু নয়, নিজেই এসে দেখুন নানাপদের আর লোভনীয় স্বাদের খাবারে উদরপূর্তি আর মন ভালো করে দেওয়ার সব ব্যবস্থাই রাখা রয়েছে কাঠ কয়লায়।দুজনের জন্য খরচ ৮০০ টাকা। হুঁকার দাম আলাদা। ২৯৫-৫২৫ টাকার মধ্যে ইচ্ছেমত বেছে নিতে হবে।

অল্পদিনেই পরিচিতি অনেকটাই ছড়িয়ে গিয়েছে এই হুঁকা ক্যাফের। গ্রাহক সামলাতে প্রায় সারা দিনই ব্যস্ত সময় কাটে সুমিতদের। সকাল এগারোটা থেকে প্রায় মাঝ রাত পর্যন্ত খোলা পাওয়া যায়। কিন্তু গার্মেন্টসের ব্যবসা থিতু হয়ে এমন ঝুঁকি নিতে গেলেন কেন? তরুণ ব্যবসায়ী বলছেন, ঝুঁকি নেওয়ার এটাই তো সময়।

Add to
Shares
1
Comments
Share This
Add to
Shares
1
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags