গাড়ির যন্ত্রাংশের মুশকিল আসান স্পেয়ার্সহাব

8th Oct 2015
  • +0
Share on
close
  • +0
Share on
close
Share on
close

সখের গাড়িটা বিগড়েছে। কাছেপিঠের গ্যারাজে যন্ত্রাংশের অভাব, তাই সারানো যাচ্ছে না কিছুতেই। বাধ্য হয়ে খুঁজতে হচ্ছে এদিক-ওদিক। ফলে শ্রমের সঙ্গে খোয়াতে হচ্ছে ট্যাক্সিভাড়া। শেষ পর্যন্ত কালঘাম ছুটলেও গাড়িটা ছুটতে পারছে না। বিকল হয়ে পড়ে থাকছে গ্যারাজেই। গাড়িওয়ালাদের এই যন্ত্রাংশের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এসে গেছে এক ওয়েবসাইট। সামান্য মাউসের ক্লিকেই আপনার প্রয়োজনের যন্ত্রাংশ হাজির। মেরামতি করিয়ে ফের চলতে শুরু করবে গাড়ি। যে ওয়েবসাইটের দৌলতে এই মুশকিল আসান তার নাম স্পেয়ার্সহাব ডটকম। তাপস গুপ্ত, দীপতনু ভদ্র ও অরিজিৎ চক্রবর্তীর মস্তিষ্কের ফসল এই স্পেয়ার্সহাব।


image


২০১৩ সালে যাত্রা শুরু। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই গ্রাহকদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে এই কোম্পানি। এই ওয়েবসাইটে ১০ হাজারেরও বেশি গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ইতিমধ্যেই এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একশোরও বেশি লেনদেন সম্ভব হয়েছে। পুনের ২০টি গ্যারাজে যন্ত্রাংশ জোগানের বরাতও পেয়েছে স্পেয়ার্সহাব। অনলাইন ছাড়াও অফলাইনে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি শুরু করেছে এই কোম্পানি।


image


‘মার্সেডিজ বেঞ্জ’-এর চাকরি ছেড়ে নতুন কিছু উদ্যোগের কথা ভেবেছিলেন তাপস। কাকতালীয়ভাবে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী থেকে ফোন করেন তাঁর ভাইপো। ‘স্কোডা অক্টাভিয়ার-এর সাসপেনশন পার্টস’ চেয়ে পাঠায় তিনি। জানান স্থানীয় গ্যারাজ তো দূরের কথা, অনলাইনে খুঁজে পাননি ওই যন্ত্রাংশ। আর এই পরিস্থিতিই নতুন পথ খুঁজে দেয় তাপস গুপ্তকে। ‘হন্ডার’ প্রাক্তন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার দীপতনু ভদ্র ও টাটা মোটরসের অরিজিৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে শুরু করেন স্পেয়ার্সহাব ডটকম। চাহিদা থাকায় কিছু দিনের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয় এই কোম্পানি।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে যাত্রীবাহী গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজার ১.২ বিলিয়ন। ২০১৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটা আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অবাক করার বিষয়, এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ গাড়ির যন্ত্রাংশ অনলাইন বাজারের আওতায় পড়ে। এই বিশাল ফাঁকা জায়গাটা ধরতে চাইছে স্পেয়ার্সহাব। পুণে ছাড়াও দিল্লি, মুম্বই, উত্তর পূর্বের কিছু শহর ও দক্ষিণ ভারত থেকে যন্ত্রাংশের অর্ডার আসে কোম্পানিতে। যা গ্যারাজ মালিক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে তিন থেকে চার দিন সময় নেয় স্পেয়ার্সহাব। কিছু ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ না পাওয়া গেলে ৬-৭ দিন সময় চেয়ে নেওয়া হয়। কোম্পানির ওয়েবসাইটে যে যন্ত্রাংশগুলি বিক্রি হয় তার দাম ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার পর্যন্ত। তবে দামি বিলাসবহুল গাড়ি, যেমন স্কোডা, টয়োটা, মার্সেডিজ, বিএমডব্লু-র ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের দাম অনেক সময় হেরফের হয়।


image


ভারতের বুকে এই মুহূর্তে ২৩টি গাড়ির কোম্পানি ও ১১০টি গাড়ির মডেলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করছে স্পেয়ার্স হাব। আগামী দিনে চার চাকা ছাড়াও দু’চাকা ও বানিজ্যিক গাড়ির যন্ত্রাংশের দিকে ঝুঁকতে চায় কোম্পানি। গ্রাহক পরিষেবা সন্তোষজনক হওয়ায় ইতিমধ্যেই দু’চাকা ও ক্রেন-এর যন্ত্রাংশের অর্ডার আসছে ওয়েবসাইটে। কিন্তু এখনই সেদিকে ঝুঁকছেন না কোম্পানির কর্ণধার তাপসবাবু। আপাতত তাঁর লক্ষ্য, বিদেশেও তাঁদের ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ ভারতে তৈরি বহু গাড়িই এখন প্রতিবেশী রাষ্ট্রে রফতানি করা হচ্ছে। বিদেশে এই গাড়িগুলির যন্ত্রাংশের চাহিদা পূরণ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে ব্যবসা থেকে কোটি টাকা লাভ করাই ইচ্ছে তাঁর। যা করতে গিয়ে ওয়েবসাইটে এক লক্ষ যন্ত্রাংশের ছবি দেখতে চান তিনি। তাপসবাবু মনে করেন, এই আসল যন্ত্রাংশের ছবির ওপর ভরসা করেই বাজার বাড়বে তাঁর। কারণ মাত্র দু’বছরের ব্যবসা তাঁকে শিখিয়েছে, ‘যো দিখতা হ্যায়, ওহি বিকতা হ্যায়।’

  • +0
Share on
close
  • +0
Share on
close
Share on
close
Report an issue
Authors

Related Tags

Our Partner Events

Hustle across India