সংস্করণ
Bangla

কলকাতার দুই 'সুলতান' হন্যে হয়ে ঘুরছেন টাকার জন্যে

31st Mar 2017
Add to
Shares
13
Comments
Share This
Add to
Shares
13
Comments
Share

ওদের সোনার ছেলে বলবেন নাকি লৌহ মানব! পছন্দটা আপনার। চওড়া বুকের ছাতি। শক্ত কব্জি আর অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা নিয়ে এই শহরের বুকেই থাকেন বিশ্বজিত সাহা আর রাজদীপ পাত্র। ভারতের হয়ে বিদেশের মাটিতে বেঞ্চ প্রেস লিফটিং করে পর পর দু বার সোনা পেয়েছেন একজন। আর একজন দেশের হয়ে জিতেছেন রুপো ও ব্রোঞ্জ। তবু প্রচারের আলো থেকে অনেক দুরে এই দুই বঙ্গতনয়। একজনের নাম বিশ্বজিৎ সাহা অন্যজন রাজদীপ পাত্র। দুই ওয়েট লিফটারের সামনে এখন প্রতিবন্ধকতার নাম শুধুই টাকা।

image


যেদেশে ক্রিকেট, ফুটবল নিয়ে এত মাতামাতি। সে দেশে অন্য খেলা গুলো কেমন স্টেজের আড়ালে গ্রিন রুমে মুখ লুকিয়ে বসে থাকে। কোনও প্রশংসা তো জোটেই না বরং নিদারুণ অর্থকষ্টে জীবনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে দারুণ সব প্রতিভা তলিয়ে যায়। ওয়েট লিফটিং বা বডি বিল্ডিংয়ের মতো অ্যাথলেটিক্স সেই সব খেলার তালিকায় পড়ে। বিশ্বসেরা আমাদেরই ভূমিপুত্র তার খবর কজন রাখেন? তাই ইওরস্টোরির পাতায় উঠে এসেছে বিশ্বজিতের সাফল্যের কথা। রাজদীপের অধ্যাবসয়ের কাহিনি।

প্রচারের আলো যে পড়বে না সেটা অনুমান করেও সোনা জেতার দৌড়ে নামতে দিন রাত এক করে দিয়েছেন বিশ্বজিৎ ও রাজদীপ। এখন ঘুরে মরছেন টাকার জন্যে।

কলকাতায় বড় হয়ে ওঠা এই দুই যুবক প্রাথমিক ভাবে বডি বিল্ডিং করতেন। মনোহর আইচের কাছে প্রশিক্ষণও নিতেন। কিন্তু তাতে খরচের পরিমান দিন দিন বাড়ছিল। পরিমান মতো সুষম খাবার এবং ফুড সাপ্লিমেন্টের খরচ জোগাতেই দিন কাবার হয়ে যেত। ইচ্ছে থাকলেও সেই প্রশিক্ষণ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। তখন শুরু হয় ওয়েট লিফ্টিং, বলছিলেন বিশ্বজিৎ। ২০১৫ ও ২০১৬য় আরব ও থাইল্যান্ডে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে পর পর দুবার সোনা জিতেছেন। একই প্রতিযোগিতায় অন্য বিভাগে রাজদীপ জিতেছেন রুপো ও ব্রোঞ্জ।

প্রায়শই ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপের ডাক পান দুজনে। বলছিলেন তখন ওদের আনন্দ আর ধরে না। তারপর যখন এই যাত্রাপথের খরচ, থাকার খরচ, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার খরচের বিষয়টা মাথায় আসে তখন মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে। এই তো সম্প্রতি আবারও ডাক এসেছে। স্পন্সরশিপ না পেলে বিফলে যাবে ডাক। এক একটা ইন্টারন্যাশনাল মিটে যেতে অনেক টাকার ব্যাপার। কে দেবেন ওদের সেই রেস্তো! একটি জিমনাশিয়ামের ট্রেনারের কাজ করেন তা দিয়েই চলে। তার মধ্যে ট্রেনিং এর খরচ আছে, নিজের পরিচর্যার খরচ জুগিয়ে ফেডারেশনকে জমা দিতে হয় ৫৫০০০ টাকা। যা আয় তাতে অত টাকা যোগাড় করা সম্ভব নয়। প্রচার নেই। সরকারি উদ্যোগ নেই। তাই স্পন্সরও নেই। যার ফল ভুগতে হয় অ্যাথলিটদের, চিন্তার রেখা বিশ্বজিৎ, রাজদীপদের কপালে।

এর আগে দু দু বার স্থানীয় বিধায়ক সাধন পাণ্ডে ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্য করেছেন। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট সরকারি ব্যবস্থা হয়নি। এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে গিয়ে ব্যহত হচ্ছে অনুশীলন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য টাকা যোগাড় করতে না পারলে ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে আর যাওয়াই হবে না।বিদেশের মাটিতে ভারতের মুখ উজ্বল করার স্বপ্ন হয়তো অধরাই থেকে যাবে বিশ্বজিৎ রাজদীপদের।

Add to
Shares
13
Comments
Share This
Add to
Shares
13
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags