সংস্করণ
Bangla

'ভাঙন শেখায় গঠনের কারিগরি'- সুষমা রাজাগোপালন

Tanmay Mukherjee
4th Nov 2015
Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share

ভাঙন মানে সবসময় ক্ষতি নয়, ভাঙনও নিয়ে আসতে পারে গঠনের বার্তা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যার সুবিধা লাভ করে গ্রাহক বা ক্রেতারাই। প্রতিনিয়ত শিল্পমহলের এই ভাঙনে বদলে যাচ্ছে সমাজ। পরিকাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে শিল্পমহলে। টেকস্পার্কের মঞ্চে সাবলিল ভাষায় পরিবর্তনের জয় গাইললেন আইটিসি ইনফোটেকের কর্ণধার সুষমা রাজাগোপালন।

image


পরিবর্তন, রূপান্তরই একমাত্র সত্য

খোলসা করে বললে, শিল্পের পরিভাষায় এই ভাঙনের অর্থ পরিবর্তন। যা দ্রুত গতিতে দেশের বাজারে ঘটে চলেছে। উদাহরণে আনা যেতে পারে টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের তুলনা। সুষমার মতে, ১০ লক্ষ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে ১৭ বছর সময় লেগে যায় টেলিফোনের। সেখানে এক বছরেরও কম সময়ে একই সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পেরেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এই জেট গতির যুগে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ভিডিও ইউটিউব থেকে ডাউনলোড হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, দিনে ইন্টারনেট পরিষেবা নিচ্ছেন ২৬৭ লক্ষ মানুষ। যার ফলে পলক ফেলতেই বিশ্বের আনাচে-কানাচে একে অন্যের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছেন। সেকারণে বদলে ফেলতে হচ্ছে ব্যবসার আদল। ব্যবসার খাতিরে এখানে যোগাযোগকেই হাতিয়ার করতে হচ্ছে।

গ্রাহক পরিষেবাই হোক মূল মন্ত্র

শুরুয়াতি উদ্যোগপতিদের সুষমার পরামর্শ, শিল্পে পরিবর্তনের ভাষাটা সর্বদা গ্রহণ করা উচিত। গ্রাহক বা ক্রেতার স্বার্থে উদ্ভাবনী কল্পনা বাস্তবায়িত করাই উদ্যোগপতির ধর্ম। আইটিসি ইনফোটেকের কর্ণধারের মতে, ওলা, উবের বা ইয়েলো পেজেস আলাদা উদ্যোগ হলেও চিন্তাধারা কিন্তু এক। গ্রাহককে উন্নততর পরিষেবা দেওয়াই এদের মূল মন্ত্র। সেক্ষেত্রে কেউ যানবাহনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। কেউ বা তথ্যের মাধ্যমে গন্তব্যের সন্ধান দিচ্ছে।

কর্মীদের উদ্য়োগে উৎসাহ দিন

পরিসংখ্যান বলছে আইটিসি ইনফোটেকের কর্মীসংখ্যা হাজারেরও বেশি। এই কর্মীদের কেবল কাজ করার পরামর্শ দেয় না কোম্পানি। প্রতিনিয়ত তাদের নিজস্ব উদ্যোগ খুলতে উৎসাহ জোগানো হয়। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে শুরুয়াতি কোম্পানির জন্য বিপুল টাকা ঢালতে তৈরি বিনিয়োগকারীর দল। সুষমার কথায় বর্তমান বলে শুধু নয়, আগামী দিনেও উদ্যোগ খুঁজতে পুঁজির অভাব হবে না শুরুয়াতিদের। 

লগ্নি কি সবাই পাবেন !

এখানেই আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সুষমা। তাঁর আশঙ্কা বহু সংখ্যক কোম্পানি পুঁজি পেলেও অনেক সম্ভাবনাময় কোম্পানি বিনিয়োগকারী পাবেন না। কারণ শুরুয়াতি উদ্যোগের অনেক পরিকল্পানাই কাগজে কলমে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশনে থেকে যায়। বাস্তবের মাটির সন্ধান পায় না। অর্থাৎ উদ্যোগের কল্পনাবিলাশ কখনই পণ্যে রূপান্তরিত হয় না। যার ফল ভুগতে হয় বিনিয়োগকারীদের। সেকারণে শুরুয়াতিদের ব্যবসার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির সম্বন্ধে সম্যক ধারণা নেয় আইটিসি ইনফোটেক। বহু আইডিয়া থেকে ঝেরে বেছে নেওয়া হয় ৬ থেকে ৮ টি উদ্যোগ। তবে এদের সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করে না কোম্পানি। পরবর্তী নিজেদের চিন্তাভাবনা কীভাবে ক্রেতা বা বাজার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে তার পরামর্শ দেয়।


Add to
Shares
0
Comments
Share This
Add to
Shares
0
Comments
Share
Report an issue
Authors

Related Tags